kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খেলা নিয়ে সংঘর্ষ কুয়েট বন্ধ

খুলনা অফিস   

৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খেলা নিয়ে সংঘর্ষ কুয়েট বন্ধ

ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার পর গতকাল সকাল থেকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে শুরু করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

আন্তহল ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কর্তৃপক্ষ কুয়েট বন্ধ ঘোষণা করে গতকাল শনিবার বিকেলের মধ্যে ছাত্রদের ও আজ রবিবার সকাল ১০টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়। অবশ্য কুয়েট ক্যাম্পাসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে কুয়েটের এম এ রশীদ হল ও ফজলুল হক হলের মধ্যে আন্তহল ফুটবল খেলা শুরু হয়। বিকেল ৫টার দিকে খেলায় রেফারির একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খেলা গোলশূন্য ড্র হলে অমর একুশে হলের সমর্থকরা রেফারি শাহ আলমের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁর সহকর্মী আকবার হোসেন এগিয়ে এলে তাঁর ওপরও হামলা চালান একুশে হলের সমর্থকরা। ফজলুল হক হলের সমর্থকরা রেফারিকে মারধরের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার সময় একুশে হলের সঙ্গে ফজলুল হক হলের ছাত্রদের হাতাহাতি হয়। সন্ধ্যায় এর জের এম এ রশীদ হল, একুশে হল ও ফজলুল হক হলে ছড়িয়ে পড়ে। একুশে হল ও ফজলুল হক হলের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় পাঁচ-ছয়জন ছাত্র আহত হন। রাতে উত্তেজনা আরো বাড়লে কুয়েট প্রশাসন জরুরি সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত  নেয়। গতকাল ক্যাম্পাস শান্ত ছিল।

গতকাল সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে শুরু করেন। তবে আকস্মিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, গুটিকয়েক ছাত্রের জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরো দায়িত্বশীল ও কঠোর হলে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যেত। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। লেখাপড়ায় ছন্দপতন ঘটবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল আলম বলেন, ‘আন্তহল ফুটবল খেলা নিয়ে দুই দল ছাত্রের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচ-ছয়জন আহত হন। রাতে বিষয়টি নিয়ে হলগুলোতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আমরা ক্যাম্পাসে কোনো অশান্তি চাই না। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ রেজিস্ট্রার জানান, শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্রদের সব হল খালি করা হয়েছে।

এদিকে কুয়েটে দুই হলের ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে গতকাল সন্ধ্যায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নূরুন্নবী মোল্লাকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে যথাশিগগির কুয়েটের উপাচার্যের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা