kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

রেসিডেনসিয়ালে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বিক্ষোভ, চার দফা দাবি তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিক্ষোভ, চার দফা দাবি তদন্ত কমিটি

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে কিশোর আলো সাময়িকীর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার রাহাতের (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার স্কুলের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। সেখানে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভির ফুটেজ প্রকাশসহ চার দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ গত শুক্রবার রাতে এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে নিহত আবরার রাহাতের বাবা।

স্কুলের দিবা শাখার ছাত্র আবরারের বাড়ি নোয়াখালী। ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবারের সঙ্গে থাকত সে। শুক্রবার রাতেই আবরারের মরদেহ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ধন্যমুড়ীতে নেওয়া হয় বলে জানা যায়।

কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম আহমেদ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

গত শুক্রবার বিকেলে কিশোর আলোর ওই অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় আবরার। সে সময় অনুষ্ঠান বন্ধ না করে কনসার্ট চালিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করছেন বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। তাদের

দাবি, অনুষ্ঠান চলাকালে তারা জানতেই পারেননি কোনও দুর্ঘটনার কথা। বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হওয়ার পর আবরারকে চিকিত্সার জন্য রাস্তার উল্টো পাশের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে মহাখালীতে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলো কেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা।

শিক্ষার্থীদের চার দাবির মধ্যে রয়েছে, ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে হবে, অনুষ্ঠান আয়োজকদের মৃত্যুর দায় স্বীকার করে আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্য দিতে হবে, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে এবং শুধু দুর্ঘটনা নয়, আয়োজকদের গাফিলতিও উদাসীনতা উল্লেখ করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। আর এসব দাবি পূরণে ৭২ ঘন্টার সময় দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি গোপাল গণেশ বিশ্বাস গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা বাদি হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে দুর্ঘটনায় আবরারের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে পরবর্তী তদন্তে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে ফেসবুক পেইজে কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক লিখেছেন, ‘আমাকে চারটার পর জানানো হয়, একজন বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠান শেষ হয় ৪টা ৪০ কি ৪টা ৪৫। পাঁচটার পর আমি জানতে পারি, আহতজন মারা গেছেন। মানে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ১৫/২০ মিনিট পরে মৃত্যুর খবর আমি পাই। তারও আধ ঘণ্টা পর আমাকে জানানো হয়, যিনি মারা গেছেন, তিনি ক্লাস নাইনের রেসিডেনসিয়ালের ছাত্র। কাজেই যারা বলছেন, নাইমুল আবরার মারা যাওয়ার খবর গোপন করে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া হয়েছে, তারা ঠিক বলছেন না।’

আনিসুল হক আরো বলেন, ‘ইউনিভার্সাল হাসপাতাল আমাদের স্পন্সর নয়। দুজন এফসিপিএস ডাক্তারসহ তারা আমাদেরকে জরুরি মেডিকাল সার্ভিস দেওয়ার জন্য ছিলেন। একটা অ্যাম্বুলেন্স রেডি ছিল। সেই অ্যাম্বুলেন্সেই আববারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কেন তাকে হৃদরোগ ইন্সিটিউটে নেওয়া হলো না, এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য আমার জানা নেই। তবে যে মেডিকাল ক্যাম্প, অ্যাম্বুলেন্স রেডি রেখেছিলাম, সেটা ভালোর জন্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা থাকা সত্ত্বেও নাইমুল আববার আমাদের ছেড়ে চলে গেল। আমরা স্তব্ধ, বিধ্বস্ত। শোকাকূল।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা