kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাক্ষাৎকার

যত বাধাই আসুক ছাত্রদল অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেই

ফজলুর রহমান খোকন, সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে




যত বাধাই আসুক ছাত্রদল অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেই

চলতি বছর ১৯ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। ১৯৯২ সালে ছাত্রদলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি চেয়ারপারসনের মনোনীতরাই ছাত্রদলের কমিটির শীর্ষ পদে থেকেছেন। তবে এবার ১০ সাংগঠনিক বিভাগের ১১৬ শাখায় মোট ৫৬৬ জন ভোটার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করে।

সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিপক্ষের হামলা-মামলায় পর্যুদস্ত ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই  সংকুচিত। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রদল কতটা সক্রিয় হবে, সাংগঠনিক গতিশীলতা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কতটা সক্রিয় হবে—এসব নিয়ে কালের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে কথা হয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সঙ্গে। কথা বলেছেন—রফিকুল ইসলাম ও হাসান মেহেদী।

কালের কণ্ঠ : ২০০৯ সাল থেকে ছাত্রদল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বিতাড়িত। রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে শিক্ষার্থীদের অধিকার বিষয়ে বড় কোনো কর্মসূচিতে ছিল না ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে কী করছে ছাত্রদল?

ফজলুর রহমান খোকন : ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ছাত্র অধিকার আদায়ে কাজ করে আসছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব দাবিতেই ছাত্রদল অতীতে রাজপথে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে। এর প্রতিবাদে আমরা সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছি।

আর দেখুন, আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে চাইলেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের ওপর নির্যাতন নেমে আসছে। আমাদের সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে দিচ্ছে না। ছাত্রলীগের নির্দেশনার বাইরে গেলে নানা অজুহাতে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে গিয়েও ছাত্রলীগের রোষানলে পড়েছি আমরা। যত বাধাই দেওয়া হোক, হামলা-মামলা সহ্য করে ছাত্রদল অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করবেই।

কালের কণ্ঠ : আপনি বলছেন ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের সংগঠন, কিন্তু অভিযোগ রয়েছে—অছাত্রদের দিয়ে ছাত্রদল কমিটি গঠন করেছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই। 

ফজলুর রহমান খোকন : অছাত্রদের নিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। বর্তমান ছাত্রদলে অছাত্রের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। নিয়মিতদের দিয়ে কমিটি গঠনে জোর দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রদল নিয়ে সমালোচনা করতে হবে, এ জন্য অনেকে এই অভিযোগ তোলে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় নানা সংকটের মধ্যে রয়েছি আমরা। বাস্তব সত্য হলো, এখন আমরা বিরোধী দলেও নেই। ক্যাম্পাসগুলোতে আমাদের অবস্থান নাজুক। ফলে দলে নতুন কর্মীও বাড়ছে না। এমন একটা অবস্থার মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংগঠন চালানো অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা মনে করি, নিয়মিত শিক্ষার্থীদেরই ছাত্ররাজনীতি করা উচিত। আর এ কারণে এবার ছাত্রদলের নেতা হওয়ার বয়স অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও জেলা ইউনিটে বয়স ও ছাত্রত্বের বিষয়টি মাথায় রেখেই কমিটি করা হবে।

কালের কণ্ঠ : দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড তেমনটা চোখে পড়ছে না। সারা দেশে আপনাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাই।

ফজলুর রহমান খোকন : সারা দেশে ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি কমিটির মেয়াদকাল দুই বছর। ইউনিটগুলোর প্রায় সব কটিতেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। আর ১০ থেকে ১২টির মতো ইউনিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমাদের বিগত কমিটির নেতারা প্রায় সব কটি ইউনিটেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে গেছেন। তবে ছাত্রদলের প্রধান ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। খুব শিগগির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যোগ্যদের নিয়েই কমিটি করা হবে।

কালের কণ্ঠ : হামলা-মামলার মধ্যে থাকা কেন্দ্রের পাশাপাশি তৃণমূলকে কিভাবে গতিশীল করবেন আপনারা?

ফজলুর রহমান খোকন : ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে নিয়মিত বসছি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অংশ নিচ্ছি। সংগঠনকে গতিশীল করতে আমাদের প্রধান টার্গেট, প্রত্যেকটি সাংগঠনিক ইউনিটের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা। আমি মনে করি, সংগঠনকে গতিশীল করতে নিয়মিত কমিটি করার কোনো বিকল্প নেই। এ ছাড়া ছাত্রদের অধিকার আদায়ে খুব শিগগির আমরা শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি দেব। একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ছাত্রদল কঠোর কর্মসূচি দেবে।

কালের কণ্ঠ : ১৯৯২ সালের পর চলতি বছর কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।

ফজলুর রহমান খোকন : ছাত্রসংগঠনের মধ্যে ছাত্রদলে নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। সম্প্রতি অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে যাচাই-বাছাই করে ভোট দিয়েছে। যা অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোতে বিরল। আমাদের নির্বাচনপ্রক্রিয়া এতটা স্বচ্ছ ছিল, কেউ এ নিয়ে কোনো অভিযোগ তুলতে পারেনি। দীর্ঘদিন পর এত সুন্দর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছাত্রদলে নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। এর পর থেকে সংগঠনের কাজে গতি এসেছে।

কালের কণ্ঠ : বুয়েটে আবরার ফাহাদ হত্যার পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ছাত্রদলের অবস্থান কী?

ফজলুর রহমান খোকন : ছাত্ররাজনীতি ছাত্রদের অধিকার আদায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের ছাত্রনেতা আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির কর্ণধার। সম্প্রতি বুয়েটে ছাত্রলীগের অপকর্ম ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসকে কলুষিত করেছে। আবরার হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগ জড়িত, এটা প্রমাণিত। ছাত্রলীগের অপকর্মের দায় অন্যান্য ছাত্রসংগঠন নেবে না। বুয়েট প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ নয়, বুয়েটে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হোক।

কালের কণ্ঠ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগের আধিপত্য। এ নিয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।

ফজলুর রহমান খোকন : দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি করে ছাত্রলীগ প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। টর্চার সেলের মাধ্যমে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ জানালেও কাজ হয়নি। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপরও হামলা চালানো হয়। ক্যাম্পাসে কোনো গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততা এই টর্চার সিস্টেমকে টিকিয়ে রেখেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসন সোচ্চার হলে এ অবস্থার অবসান সম্ভব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা