kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফোক ফেস্ট মাতাবেন ৬ দেশের ২০০ শিল্পী

নওশাদ জামিল   

৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফোক ফেস্ট মাতাবেন ৬ দেশের ২০০ শিল্পী

উৎসব : ফোক ফেস্ট মাতাবেন হিনা নাসরুল্লাহ, হাবিব কইটে, দালের মেহেন্দি, শেয়েনেবুরেবি, সাত্তুমা ও জুনুনের মতো শিল্পী ও ব্যান্ড। ছবি : সংগৃহীত

সংগীতের এক অনন্য ধারা লোকসংগীত। নদী-হাওর-বাঁওড় ঘেরা বাংলাদেশের জনপদে শুনতে পাওয়া যায় লোকসংগীতের সুর। ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, পল্লীগীতি, জারি, সারি, লালন, হাসন, জালাল, শাহ আব্দুল করিমের বৈচিত্র্যময় বাউল-মরমি গানের সুর ঘুরে বেড়ায় বাংলার জনপদে। লোকসংগীতের এই বিশাল ভাণ্ডার দেশের সংস্কৃতির আপন সম্পদ। এর আবেদন কখনো শেষ হওয়ার নয়। গ্রামাঞ্চলে লোকসংগীত যতটা সহজলভ্য শহরে ততটা নয়। নতুন প্রজন্মের সামনে লোকসংগীতকে তুলে ধরতে, দেশের এই নিজস্ব সম্পদকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের লোকসংগীতের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটাতে পঞ্চমবারের মতো রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বসছে ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক মিউজিক ফেস্টিভাল’ বা ফোক ফেস্ট। এবারকার আয়োজনে বাংলাদেশের লোকসংগীত শিল্পীদের পাশাপাশি আরো ছয় দেশ থেকে ২০০ শিল্পী অংশ নিচ্ছেন। খ্যাতিমান এই শিল্পীরা তিন দিন ধরে পরিবেশন করবেন নিজ নিজ দেশের লোকগান। সঙ্গে থাকছে লোকবাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা এবং লোকনৃত্য।

লোকগানের সুর মাধুর্য বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দিতে  সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর আয়োজন হয়ে আসছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় লোকসংগীতের অনুষ্ঠান ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট।

এবার লোকসংগীতের এ মহাযজ্ঞের আসর বসছে আগামী ১৪ থেকে ১৬ নভেম্বর। আর্মি স্টেডিয়ামে তিন দিনের এ উত্সব চলবে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত।

আয়োজকরা জানান, এবারও অনলাইনে ফ্রি নিবন্ধনের মাধ্যমে শ্রোতারা অংশ নিতে পারবেন উত্সবে। ৬ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া। অনলাইন নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে পাসপোর্ট সাইজ ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্টের স্ক্যান কপি। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে শ্রোতাদের ই-মেইলে পৌঁছে যাবে তিন দিনের তিনটি পৃথক প্রবেশ পাস। নিবন্ধনসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য কল করা যাবে ১৬৩৭৪ নম্বরে। ফোক ফেস্টের ওয়েবসাইটে  www.dhakainternationalfolkfest.com   নিবন্ধন করা যাবে।

আয়োজনের প্রথম দিন লোকসংগীত পরিবেশন করবেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত বাউলশিল্পী শাহ আলম সরকার, ভারতের দালের মেহেন্দি ও জর্জিয়ার  শেভেনেবুরেবি। নৃত্য পরিবেশন করবে প্রেমা ও ভাবনা নৃত্য দল। দ্বিতীয় দিন থাকছেন বাংলাদেশের মালেক কাওয়াল, ফকির শাহাবুদ্দিন, ম্যাজিক বাউলিয়ানার কামরুজ্জামান রাব্বি ও শফিকুল ইসলাম, পাকিস্তানের হিনা নাসরুল্লাহ, মালির হাবিব কইটে অ্যান্ড বামাদা। সমাপনী দিনের পরিবেশনায় থাকবে বাংলাদেশের কাজল দেওয়ান, চন্দনা মজুমদার, পাকিস্তানের জুনুন এবং রাশিয়ার সাত্তুমা।

এবারকার আয়োজনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী ভারতের দালের মেহেন্দি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পাঞ্জাবি ভাঙড়া গান গেয়ে ভারতজুড়ে ঝড় তোলেন তিনি। ১৯৯৫ সালে তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘বোলো তা রা রা রা’ প্রায় ২০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। তিন দশকের ক্যারিয়ারে শ্রোতাদের অসংখ্য হিট গান উপহার দিয়েছেন তিনি। সুখ্যাতি পেয়েছেন বলিউডে প্লেব্যাক করেও। দালের মেহেন্দির কণ্ঠে ভাঙড়া গান ভারতের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

উপমহাদেশের সংগীতপ্রেমীদের কাছে আরেক উন্মাদনার নাম জুনুন। পাকিস্তানের এই ব্যান্ডদল সুফি ঘরানার গান পরিবেশন করে দুই যুগের বেশি সময় ধরে শ্রোতাদের আবিষ্ট করে রেখেছে। ১৯৯৭ সালে নিজেদের চতুর্থ অ্যালবাম ‘আজাদি’ দিয়ে উপমহাদেশজুড়ে ঝড় তোলে জুনুন। জুনুনের অ্যালবামটি ৩০ মিলিয়নের বেশি বিক্রি হয়।

এবারকার আয়োজনে আরেক আকর্ষণ হিনা নাসরুল্লাহ। পাকিস্তানের এই খ্যাতিমান শিল্পী সুফি ঘরানার গান করেন। তিনি উর্দুর পাশাপাশি সিন্ধি এবং সারাইকি ভাষায় গান করেন। হিনা নাসরুল্লাহ তাঁর অসাধারণ গায়কি দিয়ে মুগ্ধ করে রেখেছেন তাঁর শ্রোতাদের।

উত্সব মাতাবে রাশিয়ার সাত্তুমা। রাশিয়ার কারেলিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল এটি। পারিবারিক এই ব্যান্ডদলের যাত্রা শুরু ২০০৩ সালে। মঞ্চে নানা ধরনের ইনস্ট্রুমেন্ট বাজিয়ে শ্রোতাদের আবিষ্ট করেন সাত্তুমার সদস্যরা। রাশিয়া, আমেরিকা, ফিনল্যান্ড, স্ক্যান্ডিনেভিয়া, এস্তোনিয়া ও জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের গান পরিবেশন করে বিপুল জনপ্রিয়তা পায় দলটি।

সান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের  লোকসংগীতকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে আমরা ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট শুরু করি। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতির জন্য দেশি-বিদেশি শিল্পীদের এক মঞ্চে জড়ো করছি। দেশের আনাচকানাচে আমাদের লোকগানের যে শিল্পীরা রয়েছেন, তাঁদের আমরা একটা প্ল্যাটফর্ম করে দিচ্ছি। আশা করছি, মাটি ও মানুষের গান বিশ্ববাসীর হৃদয় স্পর্শ করবে। আন্দোলিত করবে তরুণ প্রজন্মকেও।’

যারা নিবন্ধন করতে পারবে না তারা ফোক ফেস্ট উত্সব সরাসরি দেখতে পারবে মাছরাঙা টেলিভিশনে। ‘ফোক ফেস্ট ২০১৯’-এর টাইটেল স্পন্সর মেরিল, পাওয়ার্ড বাই ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, সাপোর্টেড বাই রাঁধুনী, ডিজিটাল পেমেন্ট পার্টনার ডিমানি, রেজিস্ট্রেশন পার্টনার সহজ, সিকিউরিটি পার্টনার এইজিস সিকিউরিটি ফোর্স, মেডিক্যাল পার্টনার স্কয়ার হসপিটালস লিমিটেড, হসপিটালিটি পার্টনার ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন, ব্রডকাস্ট পার্টনার মাছরাঙা টেলিভিশন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা