kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রাথমিক শিক্ষকদের মহাসমাবেশ পণ্ড

১৩ নভেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম ►হসমাপনী ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রাথমিক শিক্ষকদের মহাসমাবেশ পণ্ড

বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ভেতরে ঢুকে পুলিশ এক শিক্ষককে হাঁটু দিয়ে গুঁতা মারতে দেখা যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বেতনবৈষম্য নিরসনের এক দফা দাবিতে মহাসমাবেশে যোগ দিতে গতকাল বুধবার ভোর থেকেই হাজার হাজার শিক্ষক রাজধানীতে ঢুকতে থাকেন। সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশের নির্ধারিত সময় থাকলেও সকাল ৯টার মধ্যেই হাজার হাজার শিক্ষক আশপাশে জড়ো হন। কিন্তু পুলিশি বাধার মুখে তাঁরা সমাবেশস্থলেই ঢুকতে পারেননি। পরে তাঁরা দোয়েল চত্বরে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান নেন এবং কর্মসূচি ঘোষণা করেন। যাঁরা বিভিন্ন জেলা থেকে বাস নিয়ে এসেছিলেন তাঁদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়।

প্রাথমিক শিক্ষকরা তাঁদের দাবি পূরণে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম বেঁধে দেন। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের হুমকি দেন তাঁরা। আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক সমাপনী শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা।

জানা যায়, সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। বর্তমান সরকার তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারেও শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসনের কথা বলেছিল। এমনকি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১২তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাব সম্প্রতি নাকচ করে দেয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠন মিলে গঠিত হওয়া ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদে’ তাদের দাবি আদায়ে এই মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিল। তবে গতকাল ভোর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকরা আসতে শুরু করেন। সকাল থেকেই পুলিশ শহীদ মিনার ঘেরাও করে রাখে এবং শিক্ষকদের বাধা প্রদান করে।

শিক্ষকরা জানান, শহীদ মিনারে ঢোকার চেষ্টা করলে ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক আতিকুল ইসলামকে পুলিশ আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। কয়েকজন শিক্ষক জোর করে শহীদ মিনারে ঢুকতে গেলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দোয়েল চত্বরে চলে যান তাঁরা। শত শত শিক্ষক সেখানে জমায়েত হতে থাকেন। দোয়েল চত্বরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক জমায়েত হলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য লাঠিপেটা করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। এরপর পুলিশ শিক্ষকদের আধাঘণ্টার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করে সেখান থেকে চলে যেতে বলে।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন ঐক্য পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা আনোয়ারুল হক তোতা, নীতিনির্ধারণী কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সরকার, মহাসচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম। পরে সেখানে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান ও প্রধান মুখপাত্র বদরুল আলম শিক্ষকদের উদ্দেশে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

জানা যায়, পুলিশের নির্দেশে দ্রুত মহাসমাবেশ শেষ করার কারণে কয়েকজন শিক্ষক বিক্ষোভ করেন। তখন শহীদ মিনারের আশপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে একপর্যায়ে শিক্ষকরা মিছিলসহ শহীদ মিনারে ঢুকে পড়লে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ লাঠিপেটা করে। পুলিশের সঙ্গে শিক্ষকদের ধাওয়াধাওয়ি চলে। এতে প্রায় ৩০ জন শিক্ষক আহত হন বলে দাবি করেন শিক্ষকরা। তাঁদের মধ্যে চারজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সূত্র জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে বেতন পান। আর সহকারী শিক্ষকরা পান ১৪তম গ্রেডে বেতন।

শিক্ষকরা জানান, আগে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতনের পার্থক্য ছিল এক গ্রেড। প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার সমান করায় এখন সে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে তিন গ্রেড। এটি নিঃসন্দেহে বৈষম্য।

বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজার ৯০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলোতে তিন লাখ ২৫ হাজার সহকারী শিক্ষক এবং ৪২ হাজার প্রধান শিক্ষক রয়েছেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা