kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

বাদ পড়াদের তিন কোটি টাকার কী হবে?

যোগ্যতার বিচারে বাদ পড়বে জেনেও আবেদন চাওয়া হয়

শাহাদত হোসেন, শেকৃবি   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাদ পড়াদের তিন কোটি টাকার কী হবে?

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কৃষিসংশ্লিষ্ট সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন করা হয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে বেশির ভাগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের আবেদন ফি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ফলে আবেদনকারী, তাদের অভিভাবক, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকৃবি ও ইউজিসির ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা শিক্ষার্থীদের তিন কোটিরও বেশি টাকা লোপাটের পাঁয়তারা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় তিন হাজার ৫৫৫ আসনের বিপরীতে ৭৪ হাজার ৪৫৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে। তাদের মধ্য থেকে ৩৫ হাজার ৫৫০ জনকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত করে তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে এক হাজার টাকা ফি দিয়েও ৩৮ হাজার ৯৯৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারায়।

আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী আল মাসুদ রিজু বলেন, মেডিক্যাল কলেজগুলোতে সমন্বিতভাবে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়। সেদিক বিবেচনায় সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এত কম শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া অবাস্তব। ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছে। জামিউল আলম পরশ নামের এক শেকৃবি শিক্ষার্থী বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় যাদের  অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, তাদের আর কোনো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্নের অপমৃত্যু হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক কালের কণ্ঠকে বলেন, বাকৃবি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে জানত, মোট আসনের শুধু ১০ গুণ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে এসএসসি ও এইচএসসি মিলে যাদের জিপিএ ৯-এর নিচে, তারা বাদ পড়বে। তাহলে বিজ্ঞপ্তিতে কেন বলা হলো, এসএসসি ও এইচএসসি মিলে যাদের জিপিএ ৭, তারা আবেদন করতে পারবে? এটা ব্যবসার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এটা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা ছাড়া কিছু না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে জিপিএর ভিত্তিতে। এসএসসি ও এইচএসসিতে চতুর্থ বিষয় বাদে যাদের ন্যূনতম জিপিএ ৯.১৫, শুধু তারাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। বাদ পড়া ৩৮ হাজার ৯০৬ জন শিক্ষার্থীর আবেদন ফি বাবদ দেওয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি ৯ লাখ ছয় হাজার টাকা।

বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের আবেদন ফির টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুত্ফুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কত ম্যানপাওয়ার লেগেছে, কী পরিমাণ খরচ হবে, সে অনুযায়ী পরীক্ষার পরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা