kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সিলেটে রবীন্দ্র স্মরণোৎসব ঘিরে জটিলতা কাটল

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

সিলেট অফিস   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিলেটে রবীন্দ্র স্মরণোৎসব ঘিরে জটিলতা কাটল

সিলেটে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগমনের শতবর্ষ স্মরণোৎসব ঘিরে জটিলতার অবসান হয়েছে। গতকাল সোমবার সাবেক অর্থমন্ত্রী ও স্মরণোৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক আবুল মাল আবদুল মুহিত সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেন। সিলেট সিটির মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সদস্যসচিব রেখেই ৩১৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়। এ সময় স্মরণোৎসবের পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষিত হয়। পরে আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে নির্বাহী পর্ষদের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

স্মরণোৎসব পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ৮ নভেম্বর সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল মাল আবদুল মুহিত ৩১৩ সদস্যবিশিষ্ট উৎসব কমিটি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। তাতে আগের ২৫ সদস্যের সঙ্গে আরো সাতজনকে যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া বাকি সদস্যদের মধ্যে উপদেষ্টা ও প্রশাসনের ৭৩ জন এবং উৎসব কমিটির ২০৮ জন সদস্য রয়েছেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমি মন্ত্রিত্ব ছাড়ার আগেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেটে আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী আমি প্রধানমন্ত্রীকে সিলেট আসার বিষয়ে বলে রাখি। এরপর আমি অবসরে চলে যাই। তখন একটি ওয়ার্কিং কমিটির মতো একদল লোককে নিয়ে কাজ করি। তাঁরা এ ব্যাপারে অনেক কাজ করেছেন। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রুপ নয়, অনানুষ্ঠানিক। যাঁরা এসব কাজ করেন তাঁদেরই আমি বেছে বেছে দিয়েছিলাম। তাঁরা সকলেই এই কমিটিতে আছেন।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট আগমনের শতবর্ষ পূর্ণ স্মরণীয় করে রাখতে গত ২৩ জুন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে আহ্বায়ক এবং মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সদস্যসচিব করে একটি আহ্বায়ক পর্ষদ গঠন হয়। এরপর জাঁকজমপূর্ণভাবে স্মরণোৎসবের লোগো উন্মোচন, স্মরণকালের বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। পর্ষদ গঠনের চার মাস পর গত ১০ অক্টোবর সাবেক অর্থমন্ত্রীর বাসায় ১৪ দলের বৈঠকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান পর্ষদের সদস্যসচিব হিসেবে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে রাখায় আপত্তি জানালে জটিলতা তৈরি হয়। এ সময় পক্ষে-বিপক্ষে কথা উঠলে আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান। এর পর থেকে বিষয়টি নিয়ে চাপা উত্তেজনা চলছিল সংস্কৃতি অঙ্গনে। গতকাল অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার মধ্য দিয়ে এই জটিলতার অবসান হয়।

গতকাল ঘোষিত কমিটিতে সাবেক মেয়র এবং সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলীকে দ্বিতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্মরণোৎসবের কর্মসূচি তুলে ধরা জানানো হয়, ১৯১৯ সালের নভেম্বরে সিলেট এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেসব জায়গায় গিয়েছিলেন সেসব জায়গাকে কেন্দ্র করে এই অনুষ্ঠানসূচি সাজানো হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর মণিপুরি সাহিত্য পরিষদের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ৪ নভেম্বর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সিলেটে আসার পথে সেখানে তিনি যাত্রাবিরতি দিয়েছিলেন। পরদিন ৫ নভেম্বর সিলেট নগরের ব্রাহ্মমন্দিরে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বিকেলে সুরমা নদীতে বজরা দিয়ে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি নিয়ে আসা হবে। সেটি সুরমা নদীর ঐতিহ্যবাহী চাঁদনীঘাটে এসে ভিড়বে। সেখানে চার শতাধিক সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তিশিল্পীর পরিবেশন থাকবে। স্মরণোৎসবকে কেন্দ্র করে যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে বিজয়ীদের সেখানে পুরস্কৃত করা হবে। একই সময়ে সারদা স্মৃতি ভবনে একটি অনুষ্ঠান এবং কবি নজরুল অডিটরিয়ামে ব্রাহ্মসমাজের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

পরদিন ৬ নভেম্বর সকালে সিলেটের চৌহাট্টায় ঐতিহ্যবাহী সিংহবাড়িতে প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি বিকেলে নগরের মাছিমপুরে যেখানে রবীন্দ্রনাথ গিয়েছিলেন সেখানেও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যা চলবে রাত পর্যন্ত। ৭ নভেম্বর সিলেট স্টেডিয়ামে বড় পরিসরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের গুণীজনরা উপস্থিত থাকবেন। সেমিনার, চিত্র প্রদর্শনী, একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে সেখানে। ৮ নভেম্বর সমাপনী দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে নগরের হাফিজ কমপ্লেক্সে নির্বাহী পর্ষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। পর্ষদের আহ্বায়ক আবুল মাল আবদুল মুুহিতের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সদস্যসচিব আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, পর্ষদের যুগ্ম সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম চৌধুরী লিটন, মিশফাক আহমদ চৌধুরী মিশু, রজত কান্তি গুপ্ত প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা