kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাঘারপাড়ায় প্রতিবন্ধী যুবককে বেঁধে নির্যাতন

নবীগঞ্জে গাছের সঙ্গে বেঁধে দুজনকে কোপাল প্রতিপক্ষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাঘারপাড়ায় প্রতিবন্ধী যুবককে বেঁধে নির্যাতন

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরায় চোর সন্দেহে দীপংকর কর্মকার নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। স্থানীয় এক যুবক ওই মারধরের ঘটনা ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়ালে তা প্রকাশ পায়। অন্যদিকে হবিগঞ্জের নবিগঞ্জে সন্ত্রাসীরা দুরুদ মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুরুদের মেয়েজামাই বাবুল মিয়া (২৭)। বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

যশোর অফিস ও বাঘারপাড়া প্রতিনিধি জানান, গত রবিবার সকালে বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরার ছব্বারের মোড়ে দীপংকর কর্মকার নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। দীপংকর ঝিকরগাছা উপজেলার গোয়ালহাটি গ্রামের গোপাল ভদ্রের ছেলে। তিনি খাজুরা বাজার এলাকায় তাঁর খালু (মেসো) গোপাল রক্ষিতের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এক যুবক ওই মারধরের ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়ালে তা প্রকাশ পায়।

ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের অহেদ খানের ছেলে আলম খান, ইকবাল কারীর ছেলে ইলিয়াছ ও বনগ্রাম মুন্সীপাড়ার কিয়ামের ছেলে নাজমুল ওই প্রতিবন্ধী যুবককে দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে মুখে ও বুকে লাথি মারছেন। আশপাশের লোকজন তাঁদের থামতে বললেও তাঁরা কারো কথা শুনছেন না। মারধরের পর দীপংকরের মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। এরপর তিনি নিস্তেজ হয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এরপর তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জামিউজ্জামান হাসনাত গতকাল সোমবার রাতে জানান, গত রবিবার সকালে দীপংকর খাজুরা বাজার সংলগ্ন তেলীধান্যপুড়া গ্রামে তাঁর খালার বাড়িতে বেড়াতে যান। বিকেলে খালাতো ভাইয়ের সাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে ছব্বারের মোড়ে পৌঁছলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর পরিচয় জানতে চায়। এ সময় তিনি এলোমেলোভাবে কথা বললে তারা তাঁকে চোর বলে অমানবিক নির্যাতন চালায়।

এ ব্যাপারে বাঘারপাড়ার থানার ওসি জসিমউদ্দিন গতকাল রাতে বলেন, ‘ঘটনাটি ফেসবুকে দেখেছি। এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ দেয়নি।’

স্থানীয় ও এজাহার সূত্রের বরাত দিয়ে হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের মামদপুর গ্রামের বাসিন্দা দুরুদ মিয়ার সঙ্গে গ্রামের চান মিয়ার বিরোধ চলছিল। গত রবিবার সন্ধ্যায় দুরুদ মিয়া মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফেরার সময় তাঁর ওপর চান মিয়ার নেতৃত্বে তাঁর ছেলে ছমদ মিয়া ও ওয়াহিদ মিয়াসহ ৯-১০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা দুরুদ মিয়াকে গাছের সঙ্গে বেঁধে দা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে। তাঁকে বাঁচাতে তাঁর মেয়েজামাই বাবুল মিয়া এগিয়ে এলে তাঁর ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। এ সময় তাঁদের আর্তচিত্কারে লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে রক্তাক্ত দুরুদ মিয়া ও বাবুল মিয়াকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় সেখান থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে দুরুদ মিয়ার স্ত্রী মালা বেগম বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে

নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।

উল্লেখ্য, প্রায় দেড় যুগ আগের মামদপুরের আলোচিত আবদু মিয়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া পলাতক আসামি আব্দুল আহাদের বাবা চান মিয়া। এলাকায় চান মিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে বহু অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তাঁর বাহিনী ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান বলেন, গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন ও কোপানোর ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা