kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শুল্ক ফাঁকি

বিএনপির এমপি হারুনের পাঁচ বছরের জেল

এমপি পদ হারানোরও শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক ও জবি প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিএনপির এমপি হারুনের পাঁচ বছরের জেল

শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানি করে পরে তা বিক্রি করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদকে (চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এই রায় দেন। এর ফলে হারুন অর রশীদের এমপি পদ হারানোরও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ (২গ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তি লাভের পর পাঁচ বছর পার না হলে কেউ নির্বাচনে যোগ্য হবেন না। আবার ৬৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনে অযোগ্য হলে সংসদ সদস্য পদও শূন্য হবে।

নিম্ন আদালত থেকে এ ধরনের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আপিল উচ্চ আদালতে গৃহীত হওয়ার পর নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বা সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকার নজিরই বেশি। এর পক্ষে হাইকোর্টের রায় আছে। কিন্তু সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৯ মে মো. মামুন বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. খুরশিদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ‘দোষী সাব্যস্ত’, ‘দণ্ড স্থগিত’ এবং ‘দণ্ড কার্যকর স্থগিত’ হওয়ার মধ্যে প্রভেদ সুনির্দিষ্ট করে একটি রায় দেন। তাতে বলা হয়, ‘নিম্ন আপিলাত আদালত’-এর এখতিয়ার কেবল দণ্ড স্থগিত করার। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কার্যকারিতা স্থগিত করার ক্ষমতা তাঁর নেই। এসব কারণে আইনজ্ঞদের ধারণা, হারুন অর রশীদ এমপি পদও হারাতে পারেন।

এদিকে গতকাল একই মামলায় বেআইনিভাবে ওই গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমান বাপ্পী এবং গাড়ি ব্যবসায়ী ইশতিয়াক সাদেককেও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, কারাদণ্ডের পাশাপাশি হারুন অর রশীদকে ৫০ লাখ টাকা, বাপ্পীকে এক লাখ টাকা এবং সাদেককে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে হারুনকে ছয় মাস, বাপ্পীকে দুই মাস এবং সাদেককে ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় হারুন অর রশীদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাঁকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য দুজন পলাতক রয়েছেন। তাঁরা আত্মসমর্পণ করার পর বা গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই রায় কার্যকর হবে।

আদালত রায়ে বলেছেন, আসামিরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ক্রয় ও বিক্রয়ের সময় সরকারের শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ওই টাকা তাঁরা আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

জানা যায়, হারুন অর রশীদ চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালে ব্রিটেন থেকে একটি হ্যামার ব্র্যান্ডের গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে ক্রয় করেন। গাড়িটি তিনি পরে আসামি ইশতিয়াক সাদেকের কাছে ৯৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর সাদেক গাড়িটি চ্যানেল নাইনের এমডি বাপ্পির কাছে বিক্রি করেন। নিয়ম অনুযায়ী শুল্কমুক্ত গাড়ি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করলে শুল্ক দিতে হয়, কিন্তু আসামি হারুন শুল্ক না দিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করেন।

এ অভিযোগে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক ইউনুছ আলী মামলা করেছিলেন। ২০০৭ সালের ১৮ জুলাই তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা