kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ময়মনসিংহে লাগেজে খণ্ডিত দেহ, কুড়িগ্রামে পা

পরিচয় জানা যায়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহে লাগেজে খণ্ডিত দেহ, কুড়িগ্রামে পা

দেহটিতে মাথা নেই। দুই হাত ও দুই পাও নেই। বর্বর খুনিরা এভাবেই দেহটিকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে। মাথা-হাত-পা ছাড়া দেহটি পাওয়া গেছে ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের শম্ভুগঞ্জ সেতুর কাছে পরিত্যক্ত একটি লাগেজে। আর একটি পা পাওয়া গেছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের একটি পুকুরপারে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায়। মধ্যবয়সী এ হতভাগা পুরুষ মানুষটির মাথা না পাওয়া পর্যন্ত পরিচয় জানার উপায় নেই। কেন, কোন কারণে, কারা তাঁকে এভাবে হত্যা করল, তাও জানা যায়নি।   

গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে শম্ভুগঞ্জে পৌঁছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী একটি দল লাগেজটি খোলার পর দেখতে পায় খণ্ডিত দেহটি। এর আগে ধারণা করা হয়েছিল লাগেজটিতে বোমা থাকতে পারে। রবিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত লাগেজটির অবস্থানস্থল পুলিশ ও র‌্যাব ঘিরে রাখে।

পুলিশ জানায়, খুনিদের চিহ্নিত করতে মাঠে তদন্তে নেমেছে তারা। উদ্ধারের পর গতকাল সকালেই খণ্ডিত দেহটির ময়নাতদন্ত হয়েছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে। তবে দেহটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শহরের ব্যস্ততম বাসস্ট্যান্ড ব্রহ্মপুত্র নদের শম্ভুগঞ্জ সেতুর পশ্চিমাংশে পাটগুদাম বাসস্ট্যান্ড। এ সেতুর পশ্চিমাংশে সড়কের পাশে লাল রঙের একটি ট্রলি লাগেজ পড়ে থাকতে দেখা যায় রবিবার সকাল ১১টা থেকে। ব্যস্ততম বাসস্ট্যান্ড হওয়ায় কেউ এ নিয়ে মাথা ঘামায়নি। ধরে নিয়েছে কোনো যাত্রী হয়তো রেখেছে। কিন্তু সন্ধ্যার পরও লাগেজটি কেউ না নেওয়ায় স্থানীয়রা সন্দেহ করে। একজন বিষয়টি ডিউটিরত ট্রাফিক পুলিশকে জানায়। ট্রাফিক পুলিশ জানায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। পরে রাতেই ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, র‌্যাবের কমান্ডার লে. কর্নেল ইফতেখারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে র‌্যাব ও পুলিশ স্থানটি ঘিরে রাখে। খবর দেওয়া হয় বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে। গতকাল সকাল ৯টায় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল লাগেজটি খুললে ছিন্ন দেহটি পায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, হতভাগ্য ব্যক্তিটিকে খুব কাছাকাছি সময়ে হত্যা করা হয়েছে। বেশি সময় হলে দেহে পচন ধরত।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বলেন, খুনিরা ঠাণ্ডা মাথায় এ বীভৎস হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। তবে পুলিশ অপরাধীদের ধরতে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

অন্যদিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের একটি পুকুরপাড়ে পলিথিনে মোড়ানো দেহ থেকে ছিন্ন একটি পা পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ময়মনসিংহে উদ্ধার করা খণ্ডিত দেহটির একটি অংশ এই পা। উদ্ধার করা পা নিয়ে অনুসন্ধানকাজ শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘কুড়িগ্রামে উদ্ধার হওয়া পায়ের ছবির সঙ্গে ময়মনসিংহে উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত দেহের ছবি মিলিয়ে দেখেছি। প্রাথমিকভাবে পায়ের রঙের সঙ্গে খণ্ডিত দেহটির রঙের মিল পাওয়া গেছে। আবার খণ্ডিত দেহের যে অংশ থেকে পা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, উদ্ধার করা পায়ের অংশটি খণ্ডিত দেহের একই স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন করা।’

তিনি আরো জানান, উদ্ধার করা পা কিভাবে কুড়িগ্রামে এলো তা অনুসন্ধান করে দেখছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা