kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সবিশেষ

বাংলা ভাষাকে আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে...

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলা ভাষাকে আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে...

হিন্দি ও উর্দুর আগ্রাসন থেকে বাংলা ভাষাকে বাঁচাতে কলকাতায় অভিনব প্রচারণা শুরু হয়েছে। কয়েক দিন ধরে অনেক জায়গায়ই লাগানো হয়েছে এমন সব ব্যানার-ফেস্টুন, যেখানে দেওয়া হয়েছে নানা হিন্দি-উর্দু শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ।

কলকাতার অনেক বাঙালি এখন তাদের প্রতিদিনের কথায় এসব হিন্দি-উর্দু শব্দ ব্যবহার করে থাকে। ব্যানার-ফেস্টুনের কোনোটিতে লেখা ‘সওরভের থেকে সৌরভ ভালো’, কোনোটায় লেখা ‘জলেবির থেকে জিলিপি ভালো’, কিংবা ‘পরাঠার থেকে পরোটা ভালো’। অনেক বাংলাভাষী মানুষ নিয়মিত কথোপকথনের সময় যেসব হিন্দি বা উর্দু শব্দ মিশিয়ে বাংলা বলে—সেগুলোই তুলে ধরে ব্যানার-ফেস্টুনগুলোতে লেখা হয়েছে ‘নিজের ভাষা নিজের থাক’।

এসব ব্যানার কারা লাগিয়েছে, তা কোথাও উল্লেখ নেই। তবে বাংলা ভাষার ওপর কথিত হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রচার চালায়, এ রকম একটি সংগঠন ‘বাংলা পক্ষ’ অনেকটা এ ধরনেরই প্রচার চালিয়ে আসছে বেশ কবছর ধরে।

তবে এই ব্যানার-ফেস্টুনগুলো তাদের লাগানো কি না, তা নিয়ে সংগঠনটির প্রধান গর্গ চ্যাটার্জি বলেন, ‘আমাদের চিন্তাধারাকে সমর্থন করেন, এ রকম কেউ লাগিয়েছেন হয়তো। তবে আমরা হোর্ডিংয়ের বিষয়বস্তুকে সমর্থন করি। এই যে বানান বদলে যাওয়া, উচ্চারণ বদলে যাওয়া, ভাষার ওপরে আগ্রাসন—এগুলো আসলে বাংলার চাকরি, বাজার, পুঁজি আর জমি—তার ওপরে হিন্দি-উর্দুর আগ্রাসন। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই হোর্ডিংগুলোতে।’

কলকাতায় রাস্তা-ঘাটে নিয়মিত শোনা যায়—বহু মানুষ বাংলার মধ্যে হিন্দি-উর্দু আর ইংরেজি মিশিয়ে কথা বলছে কেউ অজান্তে, কেউ জেনে-বুঝেই। কলকাতার বাসিন্দা সুজাতা ঘোষ বলছিলেন, বাংলার সঙ্গে হিন্দি বা উর্দু মিশিয়ে যে ভাষায় কথা বলতে দেখেন তিনি নিয়মিত, তা যথেষ্ট কানে লাগে তাঁর। তিনি বলেন, ‘যখন রাস্তাঘাটে কথাগুলো কানে আসে, তার মধ্যে অনেক হিন্দি-উর্দু শব্দ দেখি অনেকে অবলীলায় বলে চলেন। যেমন—ডানে-বামে না বলে ডাহিনে-বাঁয়ে বলেন, অথবা ‘কেননা’ শব্দটার বদলে হিন্দির অনুকরণে ‘কেন কি’ অথবা সরাসরি হিন্দিতেই ‘কিঁউ কি’ বলেন। ছোটরাও এ ধরনের জগাখিচুড়ি ভাষা বলতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।’

সহেলী চক্রবর্তী বলছিলেন, শুধু ভাষার ব্যবহার নয়, বাইরের প্রভাব পড়েছে পোশাক থেকে শুরু করে খাদ্যাভ্যাস—সবখানেই। তাঁর কথায়, ‘বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, পোশাক-আশাক, খাবার—সব কিছুতেই যেন বাইরের একটা প্রভাব চলে এসেছে খুব বেশি করে। বাইরে থেকে যেন চাপিয়ে দিচ্ছে কেউ সব কিছু। আমরা আমাদের জায়গাগুলোই হারিয়ে ফেলছি। তার জন্যই সচেতন করতেই এ ধরনের হোর্ডিং লাগানো হচ্ছে।’ বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতির ওপর হিন্দি-উর্দুর কথিত আগ্রাসনের পেছনে রাজনীতি রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। সূত্র : বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা