kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চান ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। গতকাল রবিবার দুপুরে মতিঝিলে ড. কামালের নিজ চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। স্টিয়ারিং কমিটি খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। সারা জাতি উৎকণ্ঠিত, যেকোনো সময়ে একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উনার একটা হাত অবশ হয়ে গেছে। উনি খেতে পারেন না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে একটা প্রতিনিধিদল উনাকে দেখতে যাবে। তাঁর অবস্থাটা কী—এটা জানার জন্য। আর এ জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আবেদন করব স্যারসহ (ড. কামাল হোসেন) জোটের সব দলের প্রতিনিধিদের নামে, অনুমতি পেলে স্যারসহ অন্যরা অবশ্যই যাবেন।’

এ সময় ড. কামাল বলেন, “দেরিতে হলেও উনি (রাশেদ খান মেনন) এটা করেছেন। আমি খুশি। আমি তো এই কথাটি বারবার বলে যাচ্ছি, আপনারা কেউ কি ৩০ ডিসেম্বর ভোট দিয়েছিলেন? এই পর্যন্ত একজনের কাছ থেকে পাইনি যে ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। এখন উনিও (রাশেদ খান মেনন) কনফার্ম করলেন। আমি উনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

সমাবেশের ব্যাপারে ড. কামাল বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, সংবিধানে মৌলিক অধিকারের যে চ্যাপটার আছে, এসবের বরাত দিয়ে সরকারকে বলছি, সংবিধান মানুন।’

তিনি বলেন, ‘২২ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে; কিন্তু সমাবেশের অনুমতি এখনো পাওয়া যায়নি। ২১ তারিখে অনুমতি দিলে পরদিন সমাবেশ করা তো কঠিন কাজ। আমরা ঐকমত্যের কথা বলছি, সংঘাতের কথা বলছি না। সুতরাং কেন অনুমতি পাওয়া যাবে না।’

আ স ম আবদুর রব আরো বলেন, ‘আমরা আগামী ২২ তারিখে আবরার হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় নাগরিক শোক সমাবেশ করব। আজকে পর্যন্ত সমাবেশ করার অনুমতি পাইনি। সরকার বিভিন্ন রকমের ঘাফিলতি করছে, পরিষ্কারভাবে কিছু বলছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দেখব তারা কী করতে চায়। সরকার যদি আমাদের নাগরিক অধিকার না দেয়, মৌলিক অধিকার না দেয়, তার বিরুদ্ধে ১৭ কোটি মানুষ বাধ্য হবে তার নাগরিক অধিকার আদায় করার জন্য।’

আ স ম রব বলেন, ‘যাঁরা অভিযান করছেন জুয়ার বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে চুনোপুঁটি ধরছেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ধরছেন। বড় বড় রাঘাব বোয়াল কোথায়? যুবলীগের ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট বলেছেন, আমি একা কেন, বাকিরা কোথায়?’

সংবাদ সম্মেলনের পরে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপন জানান, ঐক্যফ্রন্টের প্যাডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বরাবর চিঠি যাবে আ স ম আবদুর রবের স্বাক্ষরে। চিঠি লেখা হয়ে গেছে। আজকেই (গতকাল) তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

বৈঠকে বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জেএসডির তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, মমিনুল ইসলাম, বিকল্পধারার অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা