kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

৮ হত্যাকাণ্ডে জড়িত

নাটোরে জেলেরূপী সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ গ্রেপ্তার

নাটোর প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাটোরে জেলেরূপী সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ গ্রেপ্তার

নাটোরে চার সহযোগীসহ দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গত শনিবার সন্ধ্যায় নাটোর শহরের রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখের জবানিতে উদ্ঘাটিত হয় ধর্ষণ শেষে হত্যাসহ আটটি চাঞ্চল্যকর অপরাধের রহস্য। ওই আটটি হত্যাকাণ্ডের প্রতিটির সঙ্গেই সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে পুলিশকে জানান। গতকাল রবিবার সকাল ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হাজির করে এ তথ্য দেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এ কে এম হাফিজ আক্তার বিপিএম, বার। পরে আদালতের মাধ্যমে আসামিদের জেলহাজতে পাঠনো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি জানান, গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় এক নারীসহ দুজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনা দুটির তদন্তভার অর্পণ করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) আকরামুল হোসেন ও বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের ওপর। তদন্ত সূত্রে গত ১৫ অক্টোবর নাটোরের সিংড়া থেকে রুবেলকে (২২) আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য মতে ওই দিন সন্ধ্যায় লালপুর উপজেলার চংধুপইল থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার ক্রেতা নাটোর শহরের সোনা ব্যবসায়ী লিটন খাঁকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যে ১৬ অক্টোবর নাটোর রেলস্টেশন এলাকা থেকে আসাদুলকে (৩৬) আটকের পর পুলিশ জানতে পারে যে লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় চুরি ও খুনের ঘটনায় আসাদুলের সঙ্গে রুবেল ও বাবু শেখ জড়িত ছিলেন। পরে ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ ওরফে আনোয়ার ওরফে আনার ওরফে কালু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিআইজি আক্তার আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ নাটোরের লালপুর উপজেলার চংধুপইল গ্রামের সাবিনা পারভীন ওরফে সাহেরা (৩২), বাগাতিপাড়া উপজেলার জয়ন্তীপুরের রেহেনা বেগম (৬০), নলডাঙ্গার বাঁশিলা পূর্বপাড়ার আমেনা বেওয়াকে (৬০) হত্যা, ২০১৪ সালে নলডাঙ্গার খাজুরা মোল্লাপাড়ার স্কুলছাত্রী মরিয়ম খাতুন লাবণীকে (১৩) ধর্ষণ শেষে হত্যা, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার বাঁশতৈল গ্রামের রূপ বানুকে (৪৫) হত্যা, একই জেলার সখীপুর থানার তক্তারচালা এলাকার সমলাকে (৬০) হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ ছাড়া তাঁর দেওয়া তথ্য মতে নওগাঁ সদর থানা এলাকায় ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যে কালাম নামের একজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সিংড়ার বিগলগলিয়া এলাকার বৃদ্ধা শেফালী খাতুন হত্যার রহস্য উন্মোচন করা হয়।

তিনি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সামগ্রিকভাবে মনে হয়েছে, মাছ মারার চেয়ে মানুষ মারা বাবু শেখের কাছে সহজ ছিল।

নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার হরিশপুর গ্রামের মৃত জাহের আলীর ছেলে সিরিয়াল কিলার বাবু শেখ নিজ এলাকায় অত্যধিক চুরি করার কারণে এলাকাছাড়া হন।

পরে বাবু শেখ ও তাঁর সহযোগীরা মাছ শিকারির (জেলে) বেশ ধারণ করে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে অপরাধ সংঘটনের লক্ষ্যে রেকি করে বেড়াত। পরে পরিকল্পনামাফিক তিনি সহযোগীদের নিয়ে সুবিধাজনক বাড়িতে প্রবেশ করে ভিকটিমকে হত্যা শেষে মালামাল লুটপাট করে পালিয়ে যেতেন। একটি ঘটনায় হত্যার আগে ভিকটিমকে ধর্ষণ করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা