kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রাবি শিক্ষার্থী লিপু হত্যাকাণ্ড

‘মামলার খরচ দিতে পারি না, বিচারও পাই না’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মামলার খরচ দিতে পারি না, বিচারও পাই না’

লিপু

প্রতি ওয়াক্ত নামাজ শেষে জায়নামাজে বসেই লিপুর জন্য চোখের জল ফেলেন মা হোসনে আরা বেগম। মাঝেমধ্যে লিপুর ছবি হাতে নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। সংসারের কাজকর্ম করতে গিয়ে লিপুর কথা মনে হতেই কাতর হয়ে পড়েন সন্তানহারা এই মা। ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে মোতালেব হোসেন লিপুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ।

সন্তানহারা লিপুর মায়ের আকুতি—লিপু হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। যাতে করে আর কোনো মাকে সন্তানহারা হতে না হয়। লিপু রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। 

গত শুক্রবার দুপুরে হোসনে আরা বেগমের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চাইলে খুব দ্রুতই আমি সন্তান হত্যার বিচার পেতাম। আমরা গরিব মানুষ, ঝিনাইদহ থেকে রাজশাহী গিয়ে মামলার খোঁজখবর নেওয়া সম্ভব নয়, মামলা চালানোর জন্য খরচও লাগে। সেই খরচ দিতেও পারি না, বিচারও পাই না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের দিন বিকেলে লিপুর চাচা বশির উদ্দীন বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর লিপুর রুমমেট মনিরুলকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

প্রথমে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান মতিহার থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) অশোক চৌহান। ওই সময় মামলার তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। এরপর ওই বছরেই মতিহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি মামলাটি সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হকের কাছে আসে। সর্বশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বরে তদন্তভার পান সিআইডির আরেক পরিদর্শক আজিজুর রহমান। এতবার তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলেও ঘটনার রহস্য এখনো ধোঁয়াশাই রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত চার্জশিটও দিতে পারেনি পুলিশ। কবে নাগাদ চার্জশিট দেওয়া হতে পারে সে বিষয়েও কিছু জানাতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। কেন লিপুকে মরতে হলো সেই কারণটা অন্তত জানতে চান লিপুর বাবা বদর উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের হত্যাকারীদের তো দূরের কথা, কেন তাকে মারল সেটাও আজ পর্যন্ত জানা গেল না। আমরা বিচারের আশা কিভাবে করব?’

মামলার অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতি রয়েছে বলে মনে করছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি আল-মামুন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লিপুকে হলের অভ্যন্তরে হত্যা করা হলো। কিন্তু এখনো কাউকে শনাক্ত করতে না পারার অর্থ প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়েছে, আমাদের এখান থেকে বেরোতে হবে। আমরা লিপু হত্যার বিচার চাই।’

জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত থেমে নেই।’ শিগগিরই মামলা সম্পর্কে সব কিছু জানা যাবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা