kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘পাবজি’ গেম খুলে দেওয়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘পাবজি’ গেম খুলে দেওয়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

দক্ষিণ কোরিয়ার কম্পানি ব্লুহোলের তৈরি করা অনলাইন গেম পাবজি (প্লেয়ার আননোনস ব্যাটেল গ্রাউন্ডস) বাংলাদেশে বন্ধ করার পর খুলে দেওয়া হয়েছে। গেমটির মাধ্যমে তরুণরা সহিংসতায় উদ্বুদ্ধ হতে পারে আশঙ্কায় এটি বন্ধ করা হয়েছিল। গেমটি ইতিমধ্যে ভারত, নেপাল, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বন্ধ করে আবার তা চালু করায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল। বন্ধ ঘোষণার পর তা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। মনোবিজ্ঞানীরাও বলছেন, গেমটি বন্ধ করা উচিত।

তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে গতকাল শনিবার বিকেলে আলাপকালে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা হরণ করতে পারে না। অভিভাবক এবং ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীরা নিজের মতামত অনুসারে চলবেন—এ অধিকার খর্ব করা উচিত নয়। আজ কেউ বলছে এই অনলাইন গেম খারাপ। আবার লাখ লাখ লোক বলছে এটি খোলা থাকলে ভালো হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘কনফারেন্সে ডিসিরা বলেছিলেন ফেসবুক বন্ধ করে দিতে। সব তো বন্ধ করা যায় না। পর্নোগ্রাফি ও জুয়া বন্ধ রাখা এবং নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিই। সেখানে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যায়। কিন্তু এই অনলাইন গেমে এমন কিছু আমরা পাইনি, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণনীতির মধ্যে পড়ে।’ 

পাবজি গেম সহিংস মনোভাব তৈরি করছে বলে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন। একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে জানান, লেখাপড়ায় ফাঁকি দিয়ে সারা রাত এই গেম খেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের আসক্তি তৈরি হয়েছে। পড়ালেখায় অনেকের মনোযোগ কমে গেছে। গেমটি খেলতে না পারলেই মানসিক যাতনা তৈরি হয়। এ কারণে পাবজি নামের খেলাটি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব কালের কণ্ঠকে বলেন, যেকোনো আসক্তিই খারাপ। এই অনলাইন গেমে যদি আসক্তি তৈরির উপাদান থাকে, এটি যদি আসক্তি তৈরি করে তাহলে তাতে আচরণগত সমস্যা তৈরি হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। প্রাত্যহিক কাজে মনোযোগ কমে যায়। আচরণগত সমস্যা তৈরি হলে এ ধরনের গেম নিয়ে ভাবনার বিষয় আছেই।

এর আগে বাংলাদেশে পাবজি খেলাটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। গেমটি শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের সহিংস করে তুলছে এবং তাদের লেখাপড়া থেকে দূরে রাখছে—এমন আশঙ্কা থেকে প্রায় ১০ দিন আগেই গেমটি যাতে বাংলাদেশে খেলা না যায় তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সুপারিশে এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে গত শুক্রবার রাতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, রিভিউ করে গেমটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পাবজি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেটা আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ধারণা ছিল, এটি খুব ক্ষতিকর একটি বিষয়। পরে পর্যালোচনা করে ক্ষতিকারক এমন কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। তাই খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে রেডইট ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে। কারণ এখানে পর্নো উপাদান রয়েছে। বাকি সব কটি গেম খুলে দেওয়া হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা