kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রামে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুন

পুরো পরিবার দগ্ধ, ছোট ছেলের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পুরো পরিবার দগ্ধ, ছোট ছেলের মৃত্যু

পাঁচ বছরের শিশু আশরাফুল যখন গত শুক্রবার রাতে ঘুমাচ্ছিল তখন সে বুঝতে পারেনি, এটাই মা-বাবার সঙ্গে তার শেষ রাত। আশরাফুলের মা-বাবা-বোনও বুঝতে পারেননি শনিবার ভোরের আলো ফুটবে না তাঁদের জীবনে। কিন্তু বাস্তবে তাই হলো। পাঁচ বছরের শিশু আশরাফুল চলে গেছে না- ফেরার দেশে, আর তার মা-বাবা-বোন ছিলেন মৃত্যুশয্যায়। গতকাল শনিবার মাগরিবের নামাজের পর নগরীর ডবলমুরিং থানার একটি কবরস্থানে শিশু আশরাফুলকে যখন চিরনিদ্রায় শায়িত করা হচ্ছিল, তখন তার দগ্ধ মা-বাবা-বোন ছিলেন ঢাকার বার্ন ইউনিটের পথে।

মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের ডবলমুরিংয়ের মোল্লাপাড়া এলাকায়। নিরিবিলি আবাসিক এলাকার একটি দোতলা ভবনের নিচতলার বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন মাছ বিক্রেতা আমির হোসেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বাসিন্দা। শনিবার ভোরে তাঁর ঘরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে দগ্ধ হন আমির হোসেন (৪৫), তাঁর স্ত্রী খালেদা আক্তার (৩০), তাঁদের বড় মেয়ে তানিয়া (৭) এবং ছোট ছেলে আশরাফুল (৫)। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে শিশু আশরাফুলের মৃত্যু হয়। আর বিকেলে তার মা-বাবা-বোনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকার বার্ন ইউনিটে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক মোহাম্মদ রফিক জানান, দগ্ধ চারজনের মধ্যে আমির হোসেনের শরীর ৮৬ শতাংশ, খালেদা আক্তারের ৫০ শতাংশ এবং তানিয়ার শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। আর মারা যাওয়া শিশু আশরাফুলের শরীরের ৩৪ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসাধীন থাকা তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের গতকাল বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন স্বজনরা।

এ ব্যাপারে ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক তারেক আজিজ বলেন, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা তিনজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পর শিশু আশরাফুলের এক চাচা ও মোল্লাপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে শিশু আশরাফুলের লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা