kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আইন অমান্য করেই রাজনীতিতে শিক্ষকরা

মাসুদ রানা   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইন অমান্য করেই রাজনীতিতে শিক্ষকরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি রাজনীতিতে জড়ানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আছে। তবে ওই নিয়ম অমান্য করেই সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫-এর ৮ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে, আচার্য, উপাচার্য, ডিন, বিভাগীয় প্রধান, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। ওই আইনের ৪৪ নম্বর ধারার ৪ নম্বর উপধারায় উল্লেখ আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না।

আইন উপেক্ষা করেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান যুবলীগের ১ নম্বর প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে আছেন দীর্ঘ তিন বছর ধরে। সম্প্রতি তিনি যুবলীগের সভাপতি হওয়ারও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটিরও (শিক্ষা ও মানবসম্পদ) সদস্য। আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে তিনি অংশ নেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হিসেবে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামসুল কবির রাহাত লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরমও কিনেছিলেন। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রত পাল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপকমিটির সদস্য। এ ছাড়া ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ হালিম আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আইনে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের রাজনীতিতে জড়ানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। তবে এটার কোনো কার্যকারিতা নেই। আমাদের কাছে এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি।’ অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে বলেন তিনি।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করি না, আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী না। আমি নিয়োগকর্তা। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের মধ্যে রাজনীতি করার নিয়ম আছে। আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা রাজনীতিতে জড়িত তাদের সঙ্গে কথা বলেন।’

এ বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষক রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনটি আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে আইন দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা