kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জবি উপাচার্যের যুবলীগ বাসনা যে কারণে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জবি উপাচার্যের যুবলীগ বাসনা যে কারণে

উপাচার্য পদের চেয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান হওয়াকে কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান। গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে তিনি বলেছেন, ‘বিশ বছর ধরে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে আছি। আমি এখনো যুবলীগের এক নম্বর সহসভাপতি। তবে আমি উপাচার্য হওয়ার পর থেকে যুবলীগের কোনো মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করিনি। এখন এই সংকটপূর্ণ সময়ে প্রধানমন্ত্রী আমাকে যুবলীগের দায়িত্ব দিলে নেব।’

জবি উপাচার্য গত শুক্রবার রাত ১১টায় বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে টক শোতে এমন ইচ্ছা ব্যক্ত করেন যে যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলে তিনি উপাচার্য পদ ছেড়ে দিতেও রাজি আছেন। টক শোতে যুবলীগের প্রসঙ্গ উঠলে ড. মীজানুর আরো বলেন, ‘আমাকে যদি বলা হয়, আপনি যুবলীগের দায়িত্ব নিতে পারবেন কিনা; তবে আমি সঙ্গে সঙ্গে উপাচার্য পদ থেকে সরে যাব এবং যুবলীগের দায়িত্ব নেব।’

ড. মীজানুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে আমার ভিসি পদ ছেড়ে যুবলীগের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়ে আসছে সেখানে ভুল-বোঝাবুঝির অবকাশ রয়েছে। মূলত একসঙ্গে দুটি কাজ না করার বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে যুবলীগের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছি। আগামীকাল গণভবনে যুবলীগ নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে বৈঠক রয়েছে তাতেও আমি অংশ নেব না।’

জবি ভিসি বলেন, ‘মার্জিত, শিক্ষিত লোকরা রাজনীতিতে না এলে অযোগ্যরাই তাদের শাসক হয়ে বসবে। যোগ্যদের জন্য এটি প্রাকৃতিক শাস্তি। টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনোসহ নানা দুর্নীতিতে যুবলীগের ১ শতাংশ জড়িত। বাকি যে লাখ লাখ নেতাকর্মী আছেন, যাঁরা করার মতো কোনো কাজই পাননি, তাঁদের সহযোগিতায় দেশ গড়ার দায়িত্ব পেলে আমি সেই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী।’

এদিকে গতকাল রাতে বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজটোয়েন্টিফোরে এক টক শোতে ভিসি মীজানুর রহমান বলেন, ‘রাজনীতি যদি চোর-বাটপারদের জায়গা হয় তবে আমাদের শাস্তি হলো চোর-বাটপারদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া। আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানো হচ্ছে। আমি সেদিন (অন্য এক টক শোতে) বলেছি, যে সংগঠনকে ভালোবাসি সে সংগঠন দুর্দশায় পড়বে, সেটা মানতে পারছি না। মাননীয় নেত্রী আমাকে দুর্দশাগ্রস্ত যুবলীগকে অসহায় অবস্থা থেকে মুক্ত করার দায়িত্ব দিলে আমি দুটি কাজ একসঙ্গে করব না। সে ক্ষেত্রে আমি যুবলীগের দায়িত্ব নেওয়ার আগে উপাচার্যের দায়িত্ব ছেড়ে দেব। এমন কথায় কেন সবাই হতাশায় ডুবছে সেটা আমার মাথায় আসছে না।’

যুবলীগে যাওয়ার অভিপ্রায় এই বয়সে করা যায় কিনা? আর যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে থেকে রাজনীতিতে লেজ রেখে দিয়েছেন কি না?—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি ভিসি মীজানুর। তিনি বলেন, ‘ভিসি পদ ছেড়ে ক্যাসিনো আর লোভ-লালসায় যেতে চাচ্ছি না। আমি জীবনেও কোনো কিছুর লোভ-লালসা করি না। উপাচার্য পদটা এখন আর উচ্চাসনে যাওয়ার মতো পদ নেই।’

টক শোতে সৈয়দ আবুল মকসুদ জবি উপাচার্যকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘এক কোটি যুবলীগের চেয়ে ২৫ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরাই আগামীর নেতৃত্ব দেবে। যুবলীগ বা কোনো দলের পরিচয় দেওয়ার মধ্যে ততটা মহত্ত্বের কিছু এখন আর নেই। তা ছাড়া এই বয়সে যুবলীগের পদের চিন্তা না করাটাই ভালো। বরং আওয়ামী লীগে যাওয়া যেতে পারে।’

আলোচনা-সমালোচনা : জবি উপাচার্যের এমন রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রকাশের ঘটনা নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কোনো রাজনৈতিক পদে থাকার নিয়ম নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের আট নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে—আচার্য ও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। ৪৪ নম্বর ধারার চার নম্বর উপধারায় উল্লেখ রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ আয়োজিত এক সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান যুবলীগের দায়িত্ব পেতে চান।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা