kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শেষ হলো বিল্ড বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী

আইসিসিবিতে বিপুল ক্রেতা-দর্শনার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেষ হলো বিল্ড বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী ২৬তম বিল্ড বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মেলার সমাপনী দিনে উপচে পড়া ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

অবকাঠামো সামগ্রী নিয়ে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘বিল্ড বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শেষ হয়েছে গতকাল শনিবার। ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর সমাপ্তি দিনে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা-দর্শনার্থীর আগমন ঘটে।

প্রদর্শনীতে অবকাঠামো উন্নয়নসংশ্লিষ্ট সর্বাধুনিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী ধারণা ও পরিষেবা নিয়ে অংশ নেয় ১৪টি দেশের ২৬৭টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই প্রদর্শনী মুখর থেকেছে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের পদচারণে।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের গভীর মনোযোগ এই প্রদর্শনীর গ্রহণযোগ্যতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প যেমন— মেট্রো রেল, অ্যাকসেস কন্ট্রোলসহ এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা বহুমুখী সেতু (সড়ক ও রেলপথ), সাবওয়ে, বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লাইন্স), বিমানবন্দর টার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেল এবং পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের কাজ চলমান কিংবা প্রক্রিয়াধীন। আর অবকাঠামো সামগ্রীর এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে ধরে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই ছাতার নিচে নিয়ে এসেছে সেমস গ্লোবাল। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করা অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বাংলাদেশে কাজ করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশে অবকাঠামো সামগ্রী প্রস্তুতের পরিকল্পনা করছে।

সেমস গ্লোবালের হেড অব মার্কেটিং নঈম শরিফ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে একই স্থানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো একত্রিত হয়েছে। ফলে দেশীয় যে কম্পানিগুলো এখানে অংশগ্রহণ করেছে তারা তাদের প্রযুক্তি ও সেবাগুলো গ্রাহকদের জানাতে পারছে। তেমনি ওই খাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রযুক্তিগুলো সম্পর্কেও জানতে পারছে তারা। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখানকার গ্রাহকদের চাহিদা ও বাজার সম্পর্কে জানতে পারছে। এর মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশই লাভবান হচ্ছে।

এদিকে অনুষ্ঠানের শেষ দিনে গতকাল আইসিসিবিতে ‘সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্ট ওয়াটার; ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড অপারেশন্স’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেমস গ্লোবাল ও এসটেক্স-বুয়েট যৌথভাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সিইও, ডিরেক্টর, জেনারেল ম্যানেজার, সিনিয়র ম্যানেজার, প্রফেশনাল ও শিক্ষার্থীসহ মোট ৬০ জন অংশগ্রহণ করেন।

এসটেক্স-বুয়েটের প্রগ্রাম ম্যানেজার ও বুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক ড. মহিদুস সামাদ খান, কোক মেমব্রেন সিস্টেমসের প্রসেস ও ফিল্ড সার্ভিস ম্যানেজার মার্টিন কুরেক, ফ্ল্যাগশিপ ঢাকা সিইটিপি ডিইপিজেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিম সিলভারম্যান, ফ্লো ওয়াটার সলিউশনস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুস্তফা এ কে খান, জি আই জেডের সিনিয়র অ্যাডভাইজর মামুনুল হুদা প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে বক্তারা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাপিটাল এক্সপেন্স (ক্যাপেক্স) ও অপারেটিং এক্সপেন্সেস (ওপেক্স), শিল্প খাতে ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্টে বিনিয়োগের বিভিন্ন খাত ও উপায়, গ্রিন ফিন্যান্সিং, রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিংসহ দূষিত পানি পরিশোধনে বিভিন্ন নতুন কৌশল ও সেগুলোর প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা