kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টেকনাফ, গফরগাঁও, পাঁচবিবি

এক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গাসহ নিহত ৪

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গাসহ নিহত ৪

তিন জেলায় এক রাতে বিজিবি ও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির গুলিতে দুই রোহিঙ্গা মাদক চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন। আর জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে অপহরণ মামলার এক আসামি ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ডাকাতি মামলার এক আসামি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি চালান আসছে—এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং লম্বাবিল এলাকায় নাফ নদের সীমান্তে অবস্থান নেয় বিজিবির একটি দল। একটি হস্তচালিত নৌকা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা নৌকাটিকে থামার সংকেত দেন। এ সময় নৌকায় থাকা লোকজন বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। দুই পক্ষের গোলাগুলি শেষে ওই এলাকায় দুই ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, দেশে তৈরি একটি অস্ত্র, দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ‘এ’ ব্লকের সুলতান আহমদের ছেলে আবুল হাসিম (২৫) এবং একই আশ্রয়শিবিরের ‘সি’ ব্লকের আবু সিদ্দিকের ছেলে নুর কামাল (১৯)। মৃতদেহের পরিচয় শনাক্তের পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলিতে মোতালেব (৪২) নামের আন্ত জেলা ডাকাতদলের সর্দার নিহত হয়েছেন। মোতালেব উপজেলার ছয়ানী রসুলপুর গ্রামের মৃত কেতু শেখ ওরফে আব্দুল গফুরের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটির বেশি মামলা রয়েছে।

গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের দুটি পৃথক টিম উপজেলার রসুলপুর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানোর সময় গোপন সূত্রে জানতে পারে রসুলপুর আঞ্চলিক সড়কে আন্ত জেলা ডাকাতদল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র ডাকাতদল পুলিশের ওপর গুলি করতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে ডিবি পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে ডাকাতদল গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ মোতালেবকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, ১৫ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ২০ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।

অন্যদিকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে পুলিশের গুলিতে আন্ত জেলা অপহরণকারীচক্রের হোতা উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা গ্রামের সাহাবুল

ইসলামের ছেলে আমিনুল ইসলাম ক্যাসেট (৪২) নিহত হয়েছেন।

পাঁচবিবি থানার ওসি মুনছুর রহমান জানান, আন্ত জেলা অপহরণ ও ডাকাতির একাধিক মামলার আসামি আমিনুল ইসলাম ক্যাসেট তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে চানপাড়া-নিশ্চিন্তা পাকা রাস্তার ধারে ভূতগাড়ী নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশের টহলদল সেখানে গেলে অপহরণকারীরা পুলিশের গাড়িতে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে আমিনুল ইসলাম ক্যাসেট নিহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাত রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

ওসি দাবি করেন, নিহত আমিনুল ইসলাম ক্যাসেটের নামে পাঁচবিবি থানায় অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় ও ডাকাতির সাতটি মামলাসহ পাশের জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন—টেকনাফ (কক্সবাজার), গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) ও পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা