kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পাওনা আদায়ে সরকার অবস্থান বদলাবে না

মন্ত্রী বললেন গ্রামীণফোন ও রবি না এলে টেলিটক বা অন্য অপারেটরে ফাইভজি

কাজী হাফিজ   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাওনা আদায়ে সরকার অবস্থান বদলাবে না

ফাইল ছবি

পাওনা আদায় নিয়ে জটিলতায় দেশের শীর্ষ দুই মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি ফাইভজি সেবার লাইসেন্স গ্রহণ না করলে সরকারি মালিকানার টেলিটক অথবা নতুন অন্য কোনো অপারেটরের মাধ্যমে এই সেবা চালু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতি হলে গ্রামীণফোন ও রবিরই হবে। টিকে থাকতে চাইলে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে যথাসময়ে তাদের উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে। তাদের কাছ থেকে পাওনা আদায়ে সরকার কঠোর অবস্থান থেকে সরবে না।

গ্রামীণফোন ও রবির টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স স্থগিত করে তাদের সেবা চালু রাখতে প্রশাসক নিয়োগ করলে ফাইভজি সেবা চালুর ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি হবে কি না—এমন প্রশ্নে গতকাল শুক্রবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ইতিমধ্যে ফাইভজি সেবার নীতিমালা প্রণয়নের জন্য তাদের কমিশনারকে (স্পেকট্রাম ডিভিশন) আহ্বায়ক  করে একটি কমিটি গঠন করেছে। গত ১৬ অক্টোবর এ বিষয়ে বিটিআরসি তাদের প্রাথমিক রোডম্যাপও ঘোষণা করেছে। তবে পাওনা আদায় নিয়ে সরকার তথা বিটিআরসির সঙ্গে গ্রামীণফোন ও রবির বিরোধ দেশে ফাইভজি সেবা যথাসময়ে শুরু করা এবং সার্বিক টেলিযোগাযোগ খাতে বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা।

এ বিষয়ে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘গ্রামীণফোন ও রবির ওপর নির্ভর করে আমরা ফাইভজি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছি না। আর রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা না করার সম্পর্ক নেই। রাষ্ট্রের চেয়ে বড় ক্ষমতাধর আর কেউ হতে পারে না। কোনো দেনা-পাওনার হিসাবের জন্য টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন আটকে থাকবে না। তাদের সরকারের পাওনা দিতেই হবে।’

বিটিআরসির দাবি অডিটের মাধ্যমে এনবিআরের পাওনা, বিলম্ব ফি ও সুদ মিলিয়ে গ্রামীণফোনের কাছে  ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আর রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পাওনা আদায়ে নানা পদক্ষেপ নিয়ে ব্যর্থ হয়ে বিটিআরসি গত ৫ সেপ্টেম্বর এক মাস সময় দিয়ে গ্রামীণফোন ও রবিকে তাদের টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স ‘কেন বাতিল করা হবে না’ তার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। আর রবি ও গ্রামীণফোন গত ২৫ ও ২৬ আগস্ট বিটিআরসির এই পাওনা দাবির বিরুদ্ধে মামলা করে। ২৮ আগস্ট ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত গ্রামীণফোনের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যায় গ্রামীণফোন।

এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রী উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর জানান, মোবাইল ফোন অপারেটররা যে মামলা করেছে তা তারা তুলে নেবে এবং বিটিআরসি লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ প্রত্যাহার করবে।

জানা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বরের পর বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের  মধ্যে আরো কয়েকটি বৈঠক এবং সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবরের বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় যে এ বিষয়ে কমিটি গঠন ও কমিটি কাজ শুরুর আগে আগামী সাত দিনের মধ্যে গ্রামীণফোন ১০০ কোটি ও পরের এক মাসের মধ্যে ১০০ কোটি টাকা বিটিআরসিকে দেবে। রবি দেবে দুই দফায় ৫০ কোটি টাকা।

কিন্তু এরপর আর ইতিবাচক কোনো খবর নেই। বিটিআরসি নোটিশ প্রত্যাহার না করায় এবং নোটিশে উল্লিখিত ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ায় গ্রামীণফোন ও রবি গত ৬ অক্টোবর বিটিআরসির নোটিশের জবাব দেয়। তাতে বিরোধের বিষয়ে মামলা থাকায় বিটিআরসির নোটিশের এখতিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়।

সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর বিটিআরসি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে গ্রামীণফোন ও রবিতে চারজন করে প্রশাসক নিয়োগের অনুমোদন চেয়ে চিঠি পাঠায় এবং গত ১৭ অক্টোবর তা অনুমোদন হয়।

অন্যদিকে একই দিন বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা আদায়সংক্রান্ত পদক্ষেপের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন।

সার্বিক পরিস্থিতিতে বিটিআরসির রোডম্যাপ অনুসারে ফাইভজি সেবার বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের প্রস্তুতি কতটুকু—এ প্রশ্নে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন ‘এমটব’ মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.) গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফাইভজির বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা কঠিন। তবে এটা বলা যায় যে অপারেটরদের প্রস্তুতি অনেকাংশেই নির্ভর করবে সরকারের ঘোষিত রূপরেখার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ, নীতিমালা, স্পেক্ট্রামের মূল্য, ফাইবারের সহজলভ্যতা, কর ব্যবস্থাসহ আরো অনেক বিষয়ের ওপর। সামগ্রিক বিবেচনা করেই এসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা