kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইইউর প্রশ্ন

বাংলাদেশ বলেছে, ‘সাব-জুডিস’ বিষয়ে আলোচনা নয়

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



 জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইইউর প্রশ্ন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় সুশাসন ও মানবাধিকার বিষয়ে ইইউ-বাংলাদেশ সভায় ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে ইইউ। এর জবাবে বাংলাদেশ বিষয়টিকে ‘সাব-জুডিস’ (বিচারাধীন) হিসেবে উল্লেখ করে এ নিয়ে আলোচনা করতে অনীহা প্রকাশ করেছে।

সভায় যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের পক্ষে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক এবং ইইউর পক্ষে ইউরোপিয়ান এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক বিভাগের প্রধান ক্যারোলিন ভিনোট। সভায় অংশ নেন ইইউর ২১ প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশের ২০টি মন্ত্রণালয়-বিভাগের প্রতিনিধিরা।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে ইইউর পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক তাদের বলেন, নিবন্ধিত ৩৯টি দলের অংশগ্রহণে প্রায় সতের শতাধিক প্রার্থীর প্রতিযোগিতায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনের চাওয়া সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করেছে। এই নির্বাচনে অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে কম সহিংসতা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তার পরও নির্বাচন নিয়ে যেসব প্রার্থীর প্রশ্ন ছিল তাঁরা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন। সে বিবেচনায় নির্বাচন সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো (সাব-জুডিস) সম্পর্কে এই ফোরামে আলোচনার অবকাশ নেই।’

সভায় মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দ্রুত ফিরিয়ে নিতে ইইউ ও এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জানায়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ওই দেশটি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হবে না।

ইইউ প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

শ্রম অধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ যাবৎ অর্জিত অগ্রগতি তুলে ধরে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) যেসব কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে সেগুলোর বিধি-বিধানের আলোকে শ্রম আইন সংশোধন ও বিধি-বিধান প্রণয়নের জন্য ইইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানায়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ে নেওয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরে। বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবারিত বলেও ইইউকে জানানো হয়। একই সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতার কথাও তুলে ধরে বাংলাদেশ।

জানা গেছে, সাবগ্রুপের আওতায় গতকাল বৈঠকটি হয়। আগামী সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ-ইইউ যৌথ কমিশনের বৈঠক হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা