kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

প্রয়োজনে পার্বত্য সন্ত্রাসীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক    

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রয়োজনে পার্বত্য সন্ত্রাসীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে প্রয়োজনে সুন্দরবনের মতো সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হতে পারে। আমরা এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে। তিনি সিদ্ধান্ত দিলেই খুব শিগগিরই পার্বত্য চট্টগ্রামে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হতে পারে।

গতকাল বুধবার রাত সোয়া ১০টায় রাঙামাটিতে আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ওই সভা শুরু হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তদেশীয় সীমান্ত থাকায় যাতে বিদেশি কোনো সন্ত্রাসী দেশের অভ্যন্তরে কোনো তত্পরতা না চালাতে পারে, সে জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সীমান্তে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হলে আমরা আরো সক্ষমতা অর্জন করব।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘পার্বত্য শান্তিচুক্তির আলোকে যেসব স্থান থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেসব স্থানে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বা বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, প্রয়োজনে আরো হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, রাঙামাটির এমপি দীপংকর তালুকদার, পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিজিএফআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদিন, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাফিন আহমেদ, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহুল ইসলাম, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুদত্ত চাকমা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল মান্নান, চট্টগ্রাম সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, বিজিবির চট্টগ্রার রেঞ্জের রিজিয়ন কমান্ডার আমিনুর রহমান শিকদার, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা প্রমুখ।

এর আগে গতকাল দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের উদ্যোগে রামগড় হাই স্কুল মাঠে সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদবিরোধী সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, পার্বত্য তিন জেলায় অশান্তি থাকতে পারে না। পাহাড়ি-বাঙালি মিলেমিশে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে সম্ভব সব কিছুই করবে সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভুল বুঝে কেউ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলে তাঁদের স্বাগত জানানো হবে। পুনর্বাসনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শান্তির দরজা সবার জন্য খোলা।

পুলিশ সুপার মো. আহমার উজ্জামানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্রর লাল ত্রিপুরা এমপি, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, পুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কুমার কারবারি, রামগড়ের মেয়র কাজী শাহজাহান প্রমুখ।

এর আগে নবনির্মিত রামগড় থানা ভবন উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাত কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা রামগড় মডেল থানা ভবন নির্মাণ করেছে গণপূর্ত বিভাগ।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে সারা দেশের মতো পার্বত্য অঞ্চলেও যখন যা প্রয়োজন, তাই করা হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করতে সারা দেশকে একই পর্যায়ে নিয়ে আসতে চাই। পার্বত্য অঞ্চলের জন্য আলাদা কিছু নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। যেখানেই দুর্নীতি দেখব, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি দেখব; সেখানেই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য এলাকার জনপ্রতিনিধি, সুধীসমাজের প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে তিন পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

(এ প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান; রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও রামগড় প্রতিনিধি)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা