kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডিবির রিমান্ডে ‘রোগীর যত্নে’ সম্রাট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিবির রিমান্ডে ‘রোগীর যত্নে’ সম্রাট

যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তাঁর সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সম্রাট অসুস্থ বলে দাবি করায় একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাঁকে রাখা হয়েছে। গতকাল বুধবার রিমান্ডের প্রথম দিন কঠিন কোনো জেরার মুখে তাঁকে পড়তে হয়নি বলে জানিয়েছে সূত্র। মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি এনামুল হক আরমানকেও রিমান্ডের প্রথম দিন মাদক কারবারের বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা অবৈধ মাদক ও অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।

এদিকে সম্রাট ও আরমানের বিরুদ্ধে রমনা থানায় দায়ের করা মামলা দুটির তদন্তভার গতকাল ডিবির কাছ থেকে র‌্যাবে হস্তান্তরের আদেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন র‌্যাব আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সম্রাটের দুটি মামলার তদন্তভার আমরা পেয়েছি। বৃহস্পতিবার (আজ) আমরা আদালতে আবেদন করব আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য। আগের মামলাগুলোর মতোই এ মামলার তদন্ত চলবে।’

গত মঙ্গলবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত দুই মামলায় সম্রাটের পাঁচ দিন করে ১০ দিন এবং আরমানের এক মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই দিন বিকেলেই দুজনকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, রিমান্ডে নেওয়ার পর বুকে ব্যথাসহ শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ বলে দাবি করেন সম্রাট। তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একজন চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছে ডিবি। গতকালও তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে অনেক ডিবি অফিসার সম্রাটের ব্যক্তিগত পরিচিত। তাঁদের অনেকে সম্রাটের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। ফলে গতকাল পর্যন্ত কঠিন কোনো জেরার মুখে পড়েননি সম্রাট।

একটি সূত্র বলছে, অসুস্থ হওয়ার কারণে তাঁকে রোগীর যত্নে রাখা হয়েছে। আরেকটি সূত্র বলছে, ডিবির কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য ছিল, মামলার তদন্ত র‌্যাবে চলে যাবে। তাই তারা সম্রাটের মামলার তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদে সময় নষ্ট করেনি। সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত নিয়ে কোনো বক্তব্যও দেননি ডিবির কেউ। এদিকে সম্রাটের সঙ্গে থাকার কারণে আরমানও অনেকটা হালকা জিজ্ঞাসাবাদে প্রথম দিন পার করেছেন। গতকাল মিন্টো রোডে ডিবির কার্যালয়ের সামনে সম্রাটের বেশ কিছু সহযোগীকে ভিড় করতে দেখা গেছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম আলোচিত হয়। নানা গুঞ্জনের পর গত ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সহযোগী আরমানসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। আরমান মদ্যপ অবস্থায় থাকায় তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সম্রাটকে নিয়ে রাজধানীর কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে এক হাজার ১৬০ পিস ইয়াবা, ১৯ বোতল মদ ও পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ৭ অক্টোবর র‌্যাব-১-এর ডিএডি আবদুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। এই দুই মামলায় সম্রাট আসামি। আরমান শুধু মাদকের মামলার আসামি।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা