kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

হাতেনাতে ধরা সোহাগের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি

ডিবি পরিচয়ে কোটি টাকা ছিনতাইয়ে ১৫ জনের দল

এস এম আজাদ   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিবি পরিচয়ে কোটি টাকা ছিনতাইয়ে ১৫ জনের দল

প্রতীকী ছবি

ব্যাংকের ভেতরে অবস্থান নিয়ে নজর রাখে দুজন। কোনো গ্রাহক বড় অঙ্কের টাকা তুললেই বাইরে থাকা দলকে খবর পৌঁছে দেয় তারা। টার্গেটের ব্যক্তি টাকা তুলে ব্যাংক থেকে বের হলে বাইরে অপেক্ষমাণ দুজন মোটরসাইকেলে তার পিছু নেয়। দূরে মাইক্রোবাসে অপেক্ষায় থাকে ‘অপারেশন দল’। মোটরসাইকেলে থাকা দল টাকা বহনকারীর সার্বক্ষণিক গতিবিধি মাইক্রোবাসে থাকা দলকে জানাতে থাকে। এরপর টাকার বাহক সুবিধাজনক স্থানে এলেই রাস্তা আটকে দাঁড়ায় মাইক্রোবাস। ওয়াকিটকি হাতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জ্যাকেট পরা ব্যক্তিরা গাড়ি থেকে নেমে শুরু করে টাকা বহনকারীর গাড়িতে তল্লাশি। বাধা দিলে মারধর করে টাকাসহ বহনকারীকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নিয়ে সটকে পড়ে তারা।

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ঢাকা শহরে এভাবেই ছিনতাই করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ১৫ সদস্যের দলটি গত ১০ অক্টোবর গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় কোটি টাকা লুট করে। পালানোর সময় জনতার হাতে ধরা পড়েন সোহাগ মাঝি (২৫) নামের একজন।

ডাকাতির মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সোহাগ মাঝি। তদন্তকারীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় অঙ্কের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা এটি। সোহাগকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস, ভুক্তভোগীদের মাইক্রোবাস, ডিবি পুলিশের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও একটি ব্যাগে ২৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। মোট ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে ৬৯ লাখ ১১ হাজার টাকা এখনো পাওয়া যায়নি।

পুলিশ গত ১২ অক্টোবর উত্তরা থেকে সোহাগ বিশ্বাস (২৫) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ছিলেন লুটে ব্যবহৃত গাড়ির চালক। ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতের নির্দেশে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। দুজনই জানিয়েছেন, জাকির নামের একজন তাঁদের গ্রুপের প্রধান। তিন ভাগে ভাগ হয়ে ১৫ জন টাকা লুট করতে যান।

পল্টন মডেল থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘ঘটনার পরদিন আব্দুল হান্নান নামের এক ব্যবসায়ী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বেশিসংখ্যক লোক জড়িত থাকায় এ ঘটনায় ডাকাতির ধারায় মামলা হয়েছে। দুই আসামি ধরা পড়ার পর পুরো তথ্য জানা গেছে। টাকা উদ্ধার ও অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।’

সূত্র জানায়, মামলার এজাহারে সোহাগ মাঝি ছাড়াও পলাতক হিসেবে খোকন, ফারুক, শাহীন ও মাইক্রোবাসের অজ্ঞাতপরিচয় চালককে আসামি করা হয়। কেরানীগঞ্জের তাওয়ালপট্টির শাহ আলমের বাড়ির মেসে থাকতেন সোহাগ মাঝি। তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর পাজাখালীতে। বাবার নাম রফিজ উদ্দিন। খোকনের বাড়িও পটুয়াখালীর বাউফলে।

তদন্তকারীরা জানান, ছিনতাইকারী দলটির নেতৃত্ব দেওয়া জাকির এক মাস আগে উত্তরা থেকে মাইক্রোবাসটি মাসিক হিসেবে ভাড়া নেন। তাঁরা সারা দিন শহরে ঘুরে বেড়ান এবং ব্যাংক থেকে রাস্তায় ওত পেতে থেকে ডিবি পরিচয়ে টাকা লুট করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা টাকার উৎস খতিয়ে দেখিনি। তবে এক ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে আদালতে প্রমাণপত্র দেখিয়ে জব্দকৃত ২৫ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ফেরত পেতে আবেদন করেছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা