kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

সবিশেষ

হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি

উষ্ণায়ন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অপ্রতুল খাদ্যের জোগান ও চরম আবহাওয়ার মিলিত আক্রমণে উত্তর আমেরিকা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ৩৮৯ প্রজাতির পাখি। ‘অডুবন সোসাইটি’র বিজ্ঞানীদের এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ৬০৪টি প্রজাতির পাখি নিয়ে গবেষণা চালাতে গিয়ে সংস্থার বিজ্ঞানীরা অর্ধেকেরও বেশি প্রজাতির পাখির বিলুপ্তিকরণ লক্ষ করেন। এই পাখিদের মধ্যে রয়েছে গ্রেটার সেজ গ্রস, বল্টিমোর অরিওল, কমন লুন, উড থ্রাশসহ আরো অসংখ্য প্রজাতির পাখি।

পরিবেশবিদ ও পক্ষীপ্রেমীদের কাছে এক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দুঃসংবাদ। কারণ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় একটি সম্মিলিত সমীক্ষা চালিয়ে পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীরা যে তথ্য পেয়েছেন তার থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, গোটা পরিবেশের ভারসাম্য এরই মধ্যে ভয়ংকরভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে এবং এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পক্ষীকুলই। ১৯৭০ সাল থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত শুধু এ দুই দেশে ৩০০ কোটি পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অর্থাৎ প্রতি চারটি পাখির মধ্যে একটি পাখির বিলোপ ঘটেছে। এ প্রসঙ্গে সাবধানবাণী শুনিয়েছেন অডুবন সোসাইটির পরিবেশ বিজ্ঞানী ব্রুক ব্যাটম্যান, ‘পাখি হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক প্রজাতি। একটি বাস্তুতন্ত্র যদি পাখিদের পক্ষে প্রতিকূল হয়ে ওঠে, তাহলে সেই পরিবেশ খুব দ্রুত মানুষের পক্ষেও প্রতিকূল হয়ে উঠবে।’

বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে আরো ধরা পড়েছে, পৃথিবীর উষ্ণতা যদি আর তিন ডিগ্রি বৃদ্ধি পায় তাহলে উত্তর আমেরিকার ৬৪ শতাংশ প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে চলে যাবে। প্যারিস চুক্তি অনুসারে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রির মধ্যে বেঁধে রাখা গেলে সেই বিলুপ্তির শতকরা হিসাব কমে দাঁড়াবে চল্লিশে। এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ উক্তিটি করেছেন অডুবন সোসাইটির প্রধান সচিব ডেভিড ইয়ারনল্ড। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পরিবেশ সচেতন মানুষকে হতাশ করলেও আশার কথা হলো, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে যদি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তাহলে এই গ্রহের ৭৬ শতাংশ প্রজাতিই রক্ষা পাবে। সুতরাং যে বাস্তুতন্ত্রে আমরা পাখিদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে বাস করি, সেই পরিবেশের দিক থেকে বিচার করলে বর্তমান সময়কে পাখিদের জন্য জরুরি অবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। সূত্র : দ্য ওয়াল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা