kalerkantho

শনিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৭। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১ সফর ১৪৪২

সবিশেষ

সৌরশক্তিচালিত বাইক উদ্ভাবন স্কুলশিক্ষকের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌরশক্তিচালিত বাইক উদ্ভাবন স্কুলশিক্ষকের

সৌরশক্তি এরই মধ্যে বিকল্প পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সৌরশক্তি ব্যবহার করে চলছে নানা উদ্ভাবনও। বিশ্ব উষ্ণায়নের দাপট ঠেকাতে সৌরশক্তিচালিত বাস, ট্রাম এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হাঁসখালি ব্লকের ৩০ বছরের যুবক শুভময় বিশ্বাস নিজের ক্ষুদ্র আয়োজনেই তৈরি করে ফেলেছেন সৌরশক্তিচালিত মোটরবাইক।

শুভময়ের ভাষায়, ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করব, প্রথম থেকেই এই ইচ্ছা মনে ছিল। তা ছাড়া যেভাবে পেট্রলের দাম উত্তরোত্তর বাড়ছে, তাতে নিজের বাইকের পেট্রল খরচ কমানোর জন্যও এটা তৈরির তাগিদ ছিল। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছোট  গাড়ি, বড় গাড়িও চালানো যাবে।’

পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শুভময়ের বাড়ি থেকে স্কুলে যাতায়াতে নিয়মিত ১৫-১৬ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে হয়। পেট্রলের সেই খরচ এড়াতেই শুভময় সৌরশক্তিচালিত বাইকের কথা ভেবেছেন। মাত্র ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি এই সৌরশক্তিচালিত বাইকের পরিকল্পনা করেছেন। আপাতত নিজের এই উদ্ভাবনের পেটেন্ট নেওয়ার আবেদনের পথে হাঁটছেন তিনি।

মোটরবাইক মানেই তা জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত, বিশ্বজুড়ে এখন এই যানেরই রমরমা। পেট্রলে চলা বাইক পরিবেশদূষণ করে, এই সংকটের কথা জানা গেলেও ভারত-বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে বাইকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। প্রয়োজনের তাড়না ছাপিয়ে বাইক হয়ে উঠেছে শখ পূরণের চাবিকাঠি। শখও থাকবে, পরিবেশও বাঁচবে, এমন পথই দেখাচ্ছেন শুভময়।

কী ম্যাজিক লুকিয়ে আছে এই বাইকে যে তা পেট্রল ছাড়া চলবে, তা-ও আবার প্রচলিত ইঞ্জিন ছাড়াই—এ প্রশ্নের উত্তর জানাচ্ছিলেন শুভময়। তিনি বলেন, ‘এতে দহনকারী ইঞ্জিন নেই, যা জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি জোগায়। এতে রয়েছে ম্যাগনেটিক ইঞ্জিন। সেটি চলবে আয়নিক ব্যাটারির চার্জে, লেড বা এসিড লেড ব্যাটারিতে নয়। প্রচলিত এই ব্যাটারির তুলনায় সেটির ওজন ১০ ভাগের এক ভাগ, চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতাও অনেক গুণ বেশি।’

বাজারে অনেক দিন ধরেই সহজলভ্য হয়ে আছে ব্যাটারিচালিত বাইক, কিন্তু সেই বাইক খুব বেশি জনপ্রিয়তা পায়নি। একদিকে চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, অন্যদিকে গতিও শ্লথ। এই সমস্যার সমাধান করেছেন শুভময়। তিনি বলেন, ‘সৌর প্যানেল লাগানো থাকছে বাইকের সঙ্গে। তা থেকে শক্তি মিলবে। তার ওপর থাকছে বিশেষ ডায়নামো। এই অটোমেটিক ম্যাগনেটিক ইনডাকশন রেজোনেটর ডায়নামো দিয়ে চার্জ হবে বাইক চলতে চলতে। ফলে শক্তি সংরক্ষণ হবে এবং বাইক ছুটবে অনেক বেশি দূরত্ব পর্যন্ত।’ শুভময়ের দাবি, এ ক্ষেত্রে কারো বাড়িতে সৌর প্যানেল বসানো থাকলে খুব সুবিধা হবে। একই সঙ্গে বাইক ও বাড়িতে বসানো প্যানেলে চার্জ দেওয়া যাবে। চার-পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে পুরো চার্জ হয়ে যাবে। এই বাইকের গতিও একেবারে খারাপ নয়। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা