kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

বুকার পুরস্কার এখন কৃষ্ণাঙ্গ লেখকেরও

যৌথভাবে বার্নারডাইন ও মার্গারেটের পুরস্কার জয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বুকার পুরস্কার এখন কৃষ্ণাঙ্গ লেখকেরও

প্রায় অর্ধশতাব্দীর প্রথা ভেঙে এই প্রথম কোনো কৃষ্ণাঙ্গ লেখকের হাতে উঠল ইংরেজি সাহিত্যের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার বুকার। ব্রিটিশ কৃষ্ণাঙ্গ লেখক বার্নারডাইন এভারিস্টো এই পুরস্কার পেলেন যৌথভাবে কানাডিয়ান ঔপন্যাসিক মার্গারেট অটউডের সঙ্গে।

২৫ বছর ধরে নিয়ম করে এই পুরস্কার প্রতিবছর শুধু একজন লেখককে দেওয়া হতো; কিন্তু এবার বিচারকরা একজন লেখককে বেছে নিতে পারেননি। বুকারের প্রায় ৫০ বছরের ইতিহাসে যৌথভাবে পুরস্কার দেওয়ার ঘটনা এটা তৃতীয়। স্থানীয় সময় গত সোমবার বুকার পুরস্কার কমিটি এবারের বিজয়ী দুজনের নাম ঘোষণা করে।

৭৯ বছর বয়সী মার্গারেট অটউডকে তাঁর টেস্টামেন্টস সিরিজের ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’ উপন্যাসের জন্য এবং ৬০ বছর বয়সী বার্নারডাইন এভারিস্টোকে তাঁর ‘গার্ল, ওম্যান, আদার’ বইটির জন্য এই পুরস্কার পেলেন। সম্মানী হিসেবে প্রায় ৬৩ হাজার মার্কিন ডলার তাঁরা দুজন ভাগ করে নেবেন।

১৯৬৯ সালে ম্যান বুকার পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। ১৯৭৪ সালে নাদিন গার্ডিমার ও স্ট্যানলি মিডলটন এবং ১৯৯২ সালে মাইকেল ওন্দাজে ও ব্যারি আন্সওর্থ যৌথভাবে এ পুরস্কার জেতেন। ১৯৯৩ সালে নিয়ম করা হয়েছিল, এই পুরস্কার আর কখনোই ভাগাভাগি করে দেওয়া হবে না। তবে সেটা এবার রক্ষা করতে পারেননি বিচারকরা।

বুকার প্রাইজ ফাউন্ডেশনের সাহিত্যবিষয়ক পরিচালক গ্যাবি উড বলেন, বুকারের বিচারকরা টানা পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা জনপ্রিয় বইগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। তাঁরা বুঝতে পারেন, এর মধ্য থেকে একজনকে বিজয়ী হিসেবে বেছে নেওয়া অসম্ভব। দুজনের কাজই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে সংক্ষিপ্ত তালিকায় কৃষ্ণাঙ্গ লেখকের উপস্থিতি থাকলেও কখনো এই পুরস্কার পাননি কেউ। সেদিক দিয়ে রেকর্ড গড়েছেন বার্নারডাইন। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন অনেক পুরস্কারই আছে, যেগুলো নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর মানুষ পায় না। এটা সত্যি যে কৃষ্ণাঙ্গরা সাহিত্যে খুব বেশি পুরস্কার পায় না। এটা কেউ খেয়াল না করলেও ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে কখনো কৃষ্ণাঙ্গ নারী এই পুরস্কার পাননি। মাত্র চারজন সংক্ষিপ্ত তালিকায় ঠাঁই পেয়েছিলেন। কিন্তু কখনো পুরস্কার হাতে ওঠেনি। আমি আশা করি, পরবর্তী সময়ে আরো কৃষ্ণাঙ্গ নারী এই পুরস্কার পাবেন।’

অন্যদিকে রেকর্ড করেছেন মার্গারেটও। কানাডিয়ান এই ঔপন্যাসিক এর আগে ২০০০ সালে তাঁর ‘ব্লাইন্ড অ্যাসাসিয়ান’ বইয়ের জন্যও বুকার জিতেছিলেন। দুটি বুকার পাওয়ার তালিকায় তিনি চতুর্থ। এ ছাড়া সবচেয়ে বয়স্ক বুকারজয়ীর রেকর্ডও গড়েছেন মার্গারেট। চলতি বছর বুকার পুরস্কারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল ছয়জনের নাম।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা