kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

গাজীপুরে দুর্নীতি সাবরেজিস্ট্রারের!

১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করতে দুদককে হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করতে দুদককে হাইকোর্টের নির্দেশ

গাজীপুর সদরের সাবরেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমির প্রকৃত মূল্য কম দেখিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করার অভিযোগ ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে তিনি যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন। ওই সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দলিল লেখক মো. আফসার উদ্দিনের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর দেওয়া এই আদেশের লিখিত কপি গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে পাওয়া গেছে। রিট আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন কাজী ওবায়দুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা।

হাইকোর্টের এই আদেশের কপি গতকাল দুদক কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনকারীর আইনজীবী।

উল্লেখ্য, আগামী ২০ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ভূমি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মশালায় বাংলাদেশের ২০ জন সাবরেজিস্ট্রারের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এই তালিকায় গাজীপুর সদরের সাবরেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের নামও রয়েছে।

রিট আবেদনকারী ও তাঁর আইনজীবী বলেন, ‘আমরা সন্দিহান যে এই সাবরেজিস্ট্রার দেশের বাইরে যেতে পারলে আর ফিরে আসবে কি না।’ তাঁরা বলেন, এর আগেও গত আগস্টে আইন পড়ার কথা বলে একবার লন্ডনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। আইন মন্ত্রণালয় দুই বছরের (২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর) ছুটিও মঞ্জুর করেছিল। সেবার তাঁর সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, জয়দেবপুর থানার সুরাবাড়ীর মো. হারুন সরকার ও তাঁ স্ত্রী সখিনা বেগম ওরফে সখিনা আক্তারের কাছ থেকে একই উপজেলার গোবিন্দবাড়ী মৌজায় ৪১ শতাংশ জমি কেনেন ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের মৃত কফিলউদ্দিনের ছেলে মো. আবু জাফর। চালা প্রকৃতির জমি হিসেবে ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল জমিটি রেজিস্ট্রি (দলিল নম্বর-৩৪৬৪) করা হয়। জমির মূল্য দেখানো হয় ২০ লাখ টাকা। কিন্তু সরকারঘোষিত জমির মূল্যতালিকা অনুযায়ী গোবিন্দবাড়ী মৌজায় প্রতি শতাংশ চালা জমির মূল্য তিন লাখ সাত হাজার ৫৬৩ টাকা। এ হিসাবে ৪১ শতাংশ জমির মূল্য হওয়ার কথা এক কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৩ টাকা। এই জমিতে এক কোটি ছয় লাখ ১০ হাজার ৮৩ টাকার ওপর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে একই দাতা-গ্রহীতা সুরাবাড়ী মৌজায় ২২ শতাংশ জমি কেনাবেচা করেন, যার দলিল নম্বর ৩৪৬৩। এই দলিলে জমির প্রকৃতি দেখানো হয়েছে চালা। সরকারঘোষিত জমির মূল্যতালিকা অনুযায়ী সুরাবাড়ী মৌজায় প্রতি শতাংশ চালা জমির মূল্য দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৪৯ টাকা। এ হিসাবে ২২ শতাংশ জমির মূল্য হওয়ার কথা ৬৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৮ টাকা। এই জমিতেও ৪৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৮ টাকার ওপর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কাশিমপুর মৌজায় ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর ৮৭২০ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ৭ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। জমির প্রকৃতি দেখানো হয় স্থাপনাবিহীন বাড়ি। মূল্য দেখানো হয়েছে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। কিন্তু সরকারের মূল্যতালিকা অনুযায়ী কাশিমপুর মৌজায় প্রতি শতাংশ ভিটি/বাড়ি প্রকৃতির জমির মূল্য দুই লাখ ৭৬ হাজার ৩৮৪ টাকা। এই হিসাবে রেজিস্ট্রি করা জমির মূল্য হওয়ার কথা ১৯ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮৮ টাকা।

শুধু এই তিনটি দলিল নয়, এ রকম অসংখ্য দলিলের ফটোকপি রিট আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করে বলা হয়েছে, এভাবে জমির মূল্য কম দেখিয়ে একদিকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাবরেজিস্ট্রার মনিরুল।

রিট আবেদনে আরো বলা হয়, এই সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে গত ২৭ জুলাই দুদক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং গাজীপুরের ডিসি-এসপির কাছে লিখিতভাবে দুর্নীতির অভিযোগ দাখিল করা হয়। আবেদনে মোট ৩৯টি (২০১৬ সালের পাঁচটি, ২০১৭ সালের ১৪টি ও ২০১৮ সালের ২০টি) দলিলের নম্বর উল্লেখ করে বলা হয়, এসব দলিলসহ আরো অসংখ্য দলিলের মাধ্যমে জমির মূল্য কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা