kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সুন্দরবন ► শায়েস্তাগঞ্জ ► লক্ষ্মীপুর

‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ভোরে ছয় লাশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ভোরে ছয় লাশ

সুন্দরবনে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে জলদস্যু আমিনুল বাহিনীর প্রধানসহ চারজন নিহত হয়েছেন। একই দিন ভোরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন এক ডাকাত। লক্ষ্মীপুরে দুই দল সন্ত্রাসী বাহিনীর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন এক যুবক। বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছেন। এ ব্যাপারে আমাদের আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

খুলনা : খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনের কয়রা খাল নামক স্থানে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জলদস্যু আমিনুল বাহিনী প্রধানসহ চারজন নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনিমুখা গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার ছেলে বাহিনীপ্রধান আমিনুল ইসলাম (৩৩), কয়রার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা গ্রামের রহমান সরদারের ছেলে বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড রফিকুল ইসলাম (৩৫), বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের মনোরঞ্জন সাহার ছেলে শ্রীমনি সাহা (৩৫) এবং সাতক্ষীরার আশাশুনির দিকলারাইট গ্রামের মৃত মুনসুর আলীর ছেলে আখতারুল ইসলাম (৩৫)। র‌্যাবের দাবি, এ ঘটনার সময় তাদের সৈনিক সৌরভ ও সিপাহি নাহিদ আহত হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ।

র‌্যাব-৬-এর ভারপ্রাপ্ত স্পেশাল কম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, সুন্দরবনের শিবসা নদীর কয়রা খাল  ামক স্থানে কয়েকটি নৌকায় জলদস্যু আমিনুল বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে ভোরে র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে জলদস্যুরা সুন্দরবনের জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে সশস্ত্র অবস্থান নেয়। এ সময় জলদস্যুদের ধাওয়া করলে তাঁরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকেন। একপর‌্যায়ে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে চার জলদস্যু নিহত হন। এ ঘটনায় কয়রা থানায় একটি মামলা হয়েছে। জলদস্যুদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

হবিগঞ্জ : শায়েস্তাগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কুদরত আলী (৪০) নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের পুরাসুন্ধা বাঁশবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুদরত আলী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের দরিয়াপুর গ্রামের ওমর আলীর ছেলে। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় দুই এসআইসহ তাদের চার সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে পাইপগানসহ দেশীয় অস্ত্র।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, কুদরত আলীসহ ১০-১২ জনের একদল ডাকাত গত সোমবার রাতে ওই স্থানে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালান। এ সময় ডাকাতদল পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই মারা যান ডাকাত কুদরত। কুদরতের নামে হবিগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইলিয়াস (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। ইলিয়াস উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের উত্তর মাগুরা গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে। পুলিশ দাবি করেছে, দুদল সন্ত্রাসী বাহিনীর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই যুবক নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, দুই রাউন্ড গুলি ও পাঁচটি গুলির খোসা এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গোলাগুলির আওয়াজ শুনে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ওই যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে—দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধে ওই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা