kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বাবা-ছেলেসহ গাইবান্ধার পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাবা-ছেলেসহ গাইবান্ধার  পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মো. রঞ্জু মিয়াসহ গাইবান্ধার পাঁচ রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি আমীর হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার। আদালত ১৭৬ পৃষ্ঠার রায়ে বলেছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে চারটি অভিযোগ তুলেছিল, তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজন হলেন মো. রঞ্জু মিয়া, মো. আবদুল ওয়াহেদ মণ্ডল, মো. মমতাজ আলী বেপারী, আবদুল জব্বার ও তাঁর ছেলে মো. জাছিজার রহমান খোকা। তাঁদের মধ্যে রঞ্জু মিয়া কারাবন্দি। বাকিরা পলাতক। মামলার পর আসামি আজগর হোসেন খানের মৃত্যু হওয়ায় তাঁর বিচার হয়নি। আবদুল জব্বার ও খোকাকে ১৯৭২ সালে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে সে সময় তাঁদের বিচার হয়নি। সব আসামির বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার নান্দিনা ও চক গয়েশপুর গ্রামে।

ট্রাইব্যুনালে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মোখলেসুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নী। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবুল হাসান।

১৯৭১ সালের ১৮ অক্টোবর গাইবান্ধার নান্দিনা, মিরপুর, সাহারবাজার, কাশদহ, বিসিক শিল্পনগরী, ভবানীপুর ও চক গয়েশপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক, ইসলাম উদ্দিন, নবীর হোসেনসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

১৯৭১ সালের ১৪ জুন বিষ্ণুপুর গ্রামে অম্বিকা চরণ, দ্বিজেন চন্দ্র সরকার ও আব্দুল মজিদের বাড়ি লুটপাট ও তাঁদের ওপর নির্যাতন, দ্বিজেন চন্দ্র সরকার ও আব্দুল মজিদকে হত্যা, ফুল কুমারী রানী ও সাধনা রানী সরকারকে জোরপূর্বক ধর্মান্তর করা এবং সাহাপাড়া ইউনিয়নের ৩০০ থেকে ৪০০ হিন্দুকে দেশত্যাগে বাধ্য করার দায়ে পাঁচজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ১৯৭১ সালের ১৮ অক্টোবর নান্দিনা গ্রামের আনছার আলীসহ আটজনকে হত্যা এবং দৌলতপুর গ্রামের লাল মিয়া বেপারীসহ পাঁচজনকে হত্যার দায়ে আবদুল জব্বার ও তাঁর ছেলে খোকা, মো. আবদুল ওয়াহেদ মণ্ডল ও মো. মমতাজ আলী বেপারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ২৯ মে ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর মো. রঞ্জু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। এরই মধ্যে আজগর হোসেন খান মারা যান। এ অবস্থায় ২০১৭ সালের ৯ মার্চ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশনপক্ষ। এরপর গত বছরের ১৭ মে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, হিন্দুদের জোর করে ধর্মান্তর করা, দেশত্যাগে বাধ্য করা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

এলাকায় মিষ্টি বিতরণ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ডের খবরে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছে মামলার বাদী নূরুল ইসলামসহ স্থানীয় লোকজন। সেই সঙ্গে রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে তারা। নূরুল ইসলাম স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘রাজাকারদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় আজ মনে হচ্ছে আমার স্বপ্ন পূরণ হলো।’ তিনি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

শহীদ লাল মিয়ার স্ত্রী সোমেলা বেওয়া বললেন, ‘১১ মাসের বাচ্চা নিয়ে আমাকে বিধবা বানিয়েছে এই রাজাকাররা। কেউ খবর নেয়নি। আমি চাই দ্রুত তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’

শহীদ সেকেন্দার আলীর স্ত্রী সোনাবী বেওয়া বলেন, ‘ওরা আমার নিরপরাধ স্বামীকে হত্যা করেছে। ওদের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় আমি খুশি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা