kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চট্টগ্রামে শুরুই হয়নি নেতাদের ‘নড়াচড়া’

কেন্দ্রের আগে বন্দরনগরের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন অনিশ্চিত

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




চট্টগ্রামে শুরুই হয়নি নেতাদের ‘নড়াচড়া’

যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে চট্টগ্রাম মহানগরে এসব সংগঠনের সম্মেলন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কমিটিগুলোর সম্মেলন কবে হবে, তা এখনো জানেন না স্থানীয় নেতারা। ডিসেম্বরে দলের জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূল কমিটির পাশাপাশি মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সম্মেলনের আগে চট্টগ্রাম মহানগরের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলনের ব্যাপারে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের এখনো ‘নড়াচড়া’ না থাকায় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে নগর কমিটিগুলোর সম্মেলন না হলে কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। বিশেষ করে তিন সহযোগী (২ নভেম্বর কৃষক লীগের, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ২৩ নভেম্বর যুবলীগ) ও এক ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের (৯ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগ) কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে স্বল্প সময়ে এসব সংগঠনের চট্টগ্রাম নগর কমিটির সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। ছয় দিন আগে সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হলেও চট্টগ্রাম নগরে এসব সংগঠনের সম্মেলনের কোনো উদ্যোগ নেই। সংগঠনগুলোর আওতাধীন সাংগঠনিক ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলোর সম্মেলন নিয়েও নেতাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। স্থানীয় নেতারা বলছেন, তৃণমূল ও নগর কমিটিগুলোতে বিভিন্ন নেতাদের দলাদলি এখন চরমে। সম্মেলন হলে বিভিন্ন ইস্যুতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এসব কারণে তৃণমূলের পাশাপাশি নগর কমিটিগুলোর সম্মেলন হচ্ছে না। গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ওয়ার্ড সম্মেলন শুরুর হওয়ার কথা থাকলেও এর কয়েক দিন আগে হঠাৎ কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সম্মেলন স্থগিত করা হয়। সম্মেলন ও কমিটির নেতৃত্ব ঘিরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিশৃঙ্খলা হতে পারে এ শঙ্কায় ওয়ার্ড সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে বলে একাধিক নেতা জানান।

জানা যায়, ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলো প্রায় মেয়াদোত্তীর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন হচ্ছে না। নগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষিত হয়েছিল ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর। প্রায় তিন বছর আগে এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। আগামী ২০ ডিসেম্বর দলের জাতীয় সম্মেলনের আগে নভেম্বরের মধ্যে তৃণমূল ও নগর সম্মেলন শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও চট্টগ্রামে সম্মেলনের ‘নড়াচড়া’ এখনো শুরু হয়নি। আবার কেউ কেউ বলছে, আগামী বছরের প্রথম দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে পারে। তাই নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের তৃণমূল ও নগর কমিটির সম্মেলন নাও হতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা জানান, নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় তৃণমূলে স্থবিরতা বিরাজ করছে। আবার কমিটির কোনো পদে না থাকলেও অনেকে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশে আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ড কমিটিগুলোর সম্মেলন শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশে আবার তা স্থগিত করেছি। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের একটি বর্ধিত সভা হবে। এতে সিদ্ধান্ত হবে কখন ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলন হবে। তবে বর্ধিত সভার তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমাদের প্রস্তুতি আছে, কেন্দ্র থেকে যখন নির্দেশনা দেওয়া হবে সম্মেলন সে অনুযায়ী করতে পারব।’

এদিকে ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কমিটি ভেঙে দিয়ে ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তিন মাসের মধ্যে নগরের ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষে মহানগর কমিটির সম্মেলন করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু তিন মাসের সেই আহ্বায়ক কমিটি ছয় বছর চার মাস পার হলেও তারা মহানগর কমিটির সম্মেলন করতে পারেনি। শুধু তা-ই নয়, ৪৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৮টি ওয়ার্ডে সম্মেলনও হয়নি। কমিটিগুলো দীর্ঘদিন থেকেই মেয়াদোত্তীর্ণ।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বলেন, আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে চট্টগ্রাম নগর কমিটির সম্মেলনের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রায় ১৭ বছর আগে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল। কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘আগামী ২৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভা। এ সভায় সিদ্ধান্ত হবে আমাদের সম্মেলন হবে কি না। তবে আমাদের প্রস্তুতি আছে।’

প্রায় ১৬ বছর আগে চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই সদস্যের আংশিক কমিটি গঠিত হয়। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার কথা থাকলেও তা করতে পারেননি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক এটলী বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে আমাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি।’

চট্টগ্রাম মহানগর কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আনোয়ার বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্র থেকে ৮১ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। এরই মধ্যে আমাদের আওতাধীন তৃণমূলের সাংগঠনিক ১০-১২টি ওয়ার্ড এবং দুটি থানা কমিটির সম্মেলন হলেও বেশির ভাগ হয়নি। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূলের সব কমিটির সম্মেলন করাটা কঠিন হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা