kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টাঙ্গাইলে মা-মেয়ে খুন

টাকার লোভেই হত্যা, ঘাতকের স্বীকারোক্তি

লুট হওয়া টাকা ও হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাকার লোভেই হত্যা, ঘাতকের স্বীকারোক্তি

টাঙ্গাইল শহরের ভাল্লুককান্দী এলাকায় ব্যবসায়ী আলামিনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও চার বছরের শিশুকন্যাকে টাকার লোভেই হত্যা করা হয়েছে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি অভিযুক্ত খুনির। গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে লুটে নেওয়া আট লাখ টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোট একটি ছোরা।

গত শনিবার রাতে হত্যাকাণ্ডের পর রবিবার রাতেই ভাল্লুককান্দী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত রাইজ উদ্দিনকে। সে টাঙ্গাইল শহরের চরপাতুলি এলাকার মৃত সুকুম উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত এই ঘাতক নিহত লাকি বেগমের স্বামী আলামিনের বন্ধু। ব্যবসার প্রয়োজনে আলামিন তাকে দিয়ে মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে টাকা আনা-নেওয়া করাতেন।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। রাইজ উদ্দিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির মুরগির ‘খোঁয়াড়’ থেকে নগদ সাত লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও ঘরের ভেতর থেকে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বাড়ির পাশের ধানক্ষেত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরা এবং হত্যাকাণ্ডের সময় ঘাতকের পরনে থাকা রক্তাক্ত শার্ট ও লুঙ্গি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

গতকাল বিকেলে রাইজ উদ্দিনকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে রবিবার বিকেলে নিহত লাকির বাবা হাসমত আলী বাদী হয়ে কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

রাইজ উদ্দিন পুলিশকে জানায়, শনিবার রাত ৮টার পর সে আলামিনের বাড়ির সামনে গিয়ে ডাক দিলে লাকি বেগম ভেতর থেকে গেট খুলে দেন। এরপর সে একের পর এক ছুরিকাঘাতে লাকি বেগমকে হত্যা করে। একপর্যায়ে তাঁর গলা কেটে ফেলে। এ সময় লাকি বেগমের শিশুসন্তান আলিফা চিৎকার করে বলে—‘কাকু, মাকে মারো ক্যান?’ তখন আলিফাকেও হত্যা করে সে। পরে ঘরে গিয়ে ড্রয়ার ভেঙে আট লাখ টাকা লুট করে রাইজ উদ্দিন।

পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখতে রাইজ উদ্দিন প্রায় সময়ই আলামিনের বাড়িতে অবস্থান করে এবং আলামিনকে সান্ত্বনা দেয়। পুলিশের সঙ্গেও সে কথা বলেছে। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তাকে রবিবার সন্ধ্যার পর আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। টাকার জন্যই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে জানিয়ে পুরো ঘটনার বিবরণ দেয় সে। তা থেকে রবিবার সে টাঙ্গাইল শহরে গিয়ে একটি মোবাইল ফোনসেট কেনে। বাকি টাকা লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে মুরগির খোঁয়াড়ে রেখে দেয়।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে সে একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর পরও তদন্ত চলছে। অন্য কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে বা তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তবে শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কাউকে হয়রানি করা হবে না।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা