kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দিরাইয়ে গাছে ঝুলছে শিশুর লাশ, পেটে বিদ্ধ দুই ছুরি

পুলিশের দাবি পরিবারের লোকজনই জড়িত

দিরাই-শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দিরাইয়ে গাছে ঝুলছে শিশুর লাশ, পেটে বিদ্ধ দুই ছুরি

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে বীভত্সভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। ঘাতকরা শিশুটির পেটে লম্বা দুটি ছোরা বিদ্ধ করে রেখে গেছে। এমনকি কেটে ফেলা হয়েছে পুরুষাঙ্গ ও দুটি কান। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিবারের লোকজনই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তথ্য মিলেছে।

গত রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কাজাউড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু তুহিন ওই গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে। খবর পেয়ে গতকাল সোমবার সকালে জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সিআইডি ও ডিবি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।  পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এরপর নিহত শিশুটির বাবাসহ পরিবারের সাতজনকে থানায় এনে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এর আগে নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল বাছির সাংবাদিকদের জানান, ১৫ দিন আগে তিনি এক কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। গত রবিবার রাতে খাবার খেয়ে তুহিনসহ দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি ঘরের সামনের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। আর নবজাতক নিয়ে ওদের মা পেছনের কক্ষে ঘুমান। রাত দেড়টার দিকে ঘুম ভাঙলে ঘরের বাইরে গিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে এসে ঘুমিয়ে থাকা তুহিনের গায়ের ওপর কাঁথা টেনে দিয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাঁর ভাতিজির ঘুম ভাঙলে তিনি সামনের দরজা খোলা দেখতে পান। দরজা খোলা কেন জানতে চেয়ে তিনি পাশের কক্ষে থাকা চাচাকে (তুহিনের বাবা) ডেকে তোলেন। পরিবারের অন্যরাও জেগে ওঠে। এ সময় সবাই দেখতে পায় যে তুহিন ঘরে নেই। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে সামান্য দূরে নতুন মসজিদের পাশে ঝোপের মধ্যে গাছের সঙ্গে তুহিনের লাশ ঝুলতে দেখা যায়।

তুহিনের বাবা বলেন, ‘গ্রামে একসময় দ্বন্দ্ব থাকলেও এখন কারো সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।’ কাউকে সন্দেহ করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যা দেখিনি তা কিভাবে বলব?’ বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তুহিনের মা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাজাউড়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন রাস্তা জমাট রক্তে লাল হয়ে আছে। পাশেই পড়ে আছে শিশুটির একটি কান। আরেকটি কান ও পুরুষাঙ্গ কেটে নিয়ে গেছে ঘাতকরা। পাশেই ঝোপের মধ্যে একটি গাছে তুহিনের লাশ ঝুলছে। পেটে বিদ্ধ হয়ে আছে দুটি লম্বা ছোরা। ছোরা দুটিতে গ্রামের সুলেমান ও সালাতুলের নাম খোদাই করা।

ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটিকে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে রাস্তায় গলা কেটে হত্যা করে। এরপর মরদেহের বিভিন্ন অঙ্গ কেটে নিয়ে লাশ পাশেই গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

এলাকাবাসী জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে নিহত তুহিনের পরিবারের বিরোধ চলে আসছে। ছুরিতে নাম থাকা সুলেমান ও সালাতুল আবার আনোয়ার হোসেনের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত। ওই দ্বন্দ্বের জের ধরেই প্রায় ১৫ বছর আগে মধুপুর গ্রামের মজিব ও কাজাউড়া গ্রামের নিলুফার হত্যাসহ একাধিক মামলা হয়েছে। সেসব মামলা এখনো চলছে।

এদিকে নিহত তুহিনের বাবা, চার চাচা, এক চাচি ও এক চাচাতো বোনকে দিরাই থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ধ্যা ৭টায় ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। এ সময় ডিবির ওসি মুক্তাদির আহমেদসহ সিআইডি, থানা পুলিশের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘ওই গ্রামে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রাম্য কোন্দল ও প্রতিহিংসা থেকেই এ নির্মম ঘটনা ঘটেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত শিশুর পরিবারের যাদের থানায় আনা হয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’

পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘শিশুটির পেটে বিদ্ধ করে রাখা ছুরির বাঁটে যাদের নাম রয়েছে তাদের বিষয়টিও আমাদের নজরে আছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অনেক তথ্য পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব কিছু বলা যাচ্ছে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা