kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দলের রাজশাহী সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের

দুর্নীতিবাজ টেন্ডারবাজ সন্ত্রাসী জুয়াড়িরা সাবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতিবাজ টেন্ডারবাজ সন্ত্রাসী জুয়াড়িরা সাবধান

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দলের মধ্য শুদ্ধি অভিযান চলছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘মাদক, জুয়াড়ি, টেন্ডারবাজ, দুর্নীতিবাজ, ভূমি দখলকারী, বালুদস্যুরা সাবধান। শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়েছে। এই অ্যাকশনের টার্গেট থেকে কোনো অপকর্মকারী রেহাই পাবে না। এই সৎসাহস শেখ হাসিনার আছে। বঙ্গবন্ধু উত্তর বাংলাদেশে আর কোনো শাসক বা আর কোনো প্রধানমন্ত্রী আর কোনো রাষ্ট্রপতি এই সৎসাহস দেখাতে পারেননি যে নিজের দলের অপকর্মকারী অপরাধীকে শাস্তি পেতে হয়।’

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে বড় বড় কথা বলেন মির্জা ফখরুল সাহেব। বুকে হাত দিয়ে বলুন। হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন, গোয়াব ভবন, লুটেরা ভবন সারা বাংলাদেশে কী করেছেন? খুনে খুনে বাংলাদেশ রক্তনদী হয়ে গেছে। লাশে লাশে বাংলাদেশে লাশের পাহাড় হয়ে গেছে। বিচার কি হয়েছে? বিচার কি কেউ পেয়েছে? আজকে বড় বড় কথা বলেন। গলাবাজি করেন ফখরুল সাহেব। নিজের লোককে শাস্তি দেওয়ার সৎসাহস কেউ দেখাতে পারেনি। পেরেছেন শেখ হাসিনা।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে আপনি ক্যাসিনোর কথা বলেন, গডফাদারের কথা বলেন, এসবের সৃষ্টি কারা করেছে? বঙ্গবন্ধু মদ-জুয়া আইন করে বন্ধ করেছেন। জিয়াউর রহমান চালু করেছেন। এ জুয়ার স্রষ্টা হচ্ছেন আপনারা। মাদকের দিকে এ দেশের তরুণদের ঠেলে দিয়েছেন আপনারা।’

প্রতিনিধি সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এবং যুবলীগের চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চেয়ারম্যান নজরদারিতে আছেন কি না, তা পরে জানা যাবে। তিনি আত্মগোপনে নেই। তবে যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। তাঁরা নজরদারিতে আছেন।’

আওয়ামী লীগ ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে নয় জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে আমরা না। যারা ছাত্ররাজনীতির নামে অপকর্ম করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। রাজনীতিবিদদের অধিকাংশেরই হাতেখড়ি ছাত্ররাজনীতি থেকে। কাজেই মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়।’

রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধিসভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী,  রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, দলের কেন্দ্রীয় সদস্য নূরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রমুখ।

সভায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে সাত জেলার সভাপতি-সম্পাদক বক্তব্য দিলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে রাজশাহী জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, রাজশাহী জেলার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কাউকেই বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি। ৫ নভেম্বর ঢাকায় রাজশাহী জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

জানা গেছে, প্রতিনিধি সম্মেলনে রাজশাহীর আট জেলার নেতারা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টিও তোলেন। পাশাপাশি তাঁরা সম্প্রতি উপজেলা ভোটে দলের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা