kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অনলাইন ক্যাসিনোর সেলিম ও দুই সহযোগী ফের রিমান্ডে

জি কে শামীম-ক্যাসিনো খালেদ কারাগারে সম্রাটকে ‘নির্দোষ’ দাবি মায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অনলাইন ক্যাসিনোর সেলিম ও দুই সহযোগী ফের রিমান্ডে

ফাইল ছবি

অনলাইন ক্যাসিনোর আন্তর্জাতিক গডফাদার হিসেবে পরিচিত সেলিম প্রধান ও তাঁর দুই সহযোগীকে আবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে (জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজত) নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত তাঁদের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সেলিম প্রধানের দুই সহযোগী হলেন মো. রোকনুজ্জামান ও মো. রোমান। অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত ৯ অক্টোবর তাঁদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। আদালত ১৩ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সিআইডি তাঁকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করার পর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ওরফে ক্যাসিনো খালেদকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুই মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর গতকাল তাকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ক্ষমা চেয়ে সম্রাটের মা বললেন, ‘আমার ছেলে নির্দোষ’ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুতি জানিয়ে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের মা ছায়েরা খাতুন বলেছেন, ‘একজন মা হিসেবে আপনার  কাছে আকুতি করছি, সম্রাটের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে ওকে মুক্ত করে দিন এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আমার সন্তানের জীবন রক্ষা করুন।’ গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ছায়েরা খাতুন এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সম্রাটের মায়ের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মেয়ে ফারহানা চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যের আগে-পরে ৩০ সেকেন্ড কথা বলেন সম্রাটের মা। সে সময় ছায়েরা খাতুন বলেন, ‘আমার সন্তান নির্দোষ। সে কোনো দোষ করেনি।’ সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি আবারও ৩০ সেকেন্ডের জন্য কথা বলেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানকে মুক্ত করে দিন। চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিন। আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) আমাদের পাশে থাকবেন।’

লিখিত বক্তব্যের শুরুতে বোন ফারহানা চৌধুরী সম্রাটের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তুলে ধরেন।

সেলিম প্রধান ও দুই সহযোগী আবার রিমান্ডে : সেলিম প্রধান ও তাঁর দুই সহযোগীকে গতকাল মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরীর আদালতে হাজির করা হয়। আসামিদের পক্ষে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মাদকদ্রব্য আইনের মামলায় সেলিম প্রধানকে কয়েক দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত ৯ অক্টোবর ওই সব মামলার রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে মাদক মামলায় তাঁর দুই সহযোগীকে কয়েক দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়।

সিআইডির পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম সেলিম প্রধানের রিমান্ডে আবেদন বলেন, সেলিম প্রধান ‘আন্তর্জাতিক ক্যাসিনো জুয়ার গডফাদার।’ বিদেশে টাকা পাচারের সঙ্গে তিনি জড়িত। তাঁকে গ্রেপ্তার করার সময় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংকক যাওয়ার পথে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে সেলিম প্রধানকে আটক করে  র‌্যাব-১-এর একটি দল।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে জি কে শামীম  : মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় গত ৭ অক্টোবর জি কে শামীমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল সিআইডি। গতকাল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদ তাঁকে আদালতে হাজির করেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ পাচারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে—উল্লেখ করে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখা হোক। অন্যদিকে শামীমের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবীরা। মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২ অক্টোবর জি কে শামীমকে অস্ত্র মামলায় চার দিন এবং মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। ওই দিন তাঁকে অস্ত্র আইনের মামলায় র‌্যাব জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়। এরপর ৭ অক্টোবর তাঁকে আদালতে হাজির করলে অস্ত্র মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আর মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় সিআইডির হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

এর আগে দুই দফায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আইনের মামলায় ১০ দিন ১০ দিন করে ২০ দিনের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল শামীমকে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর জি কে শামীমকে তাঁর সাত দেহরক্ষীসহ গুলশান থানাধীন নিকেতনের অফিসে অভিযান চালিয়ে আটক করে র‌্যাব। অভিযানে এক কোটি ৮০ লাখ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) পাওয়া যায়, যার মধ্যে তাঁর জি কে শামীমের মায়ের নামে ১৪০ কোটি ও ২৫ কোটি টাকা তাঁর নামে। পাওয়া যায় মার্কিন ডলার। জি কে শামীম ও তাঁর দেহরক্ষীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় অস্ত্র।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা