kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মাসিক অপরাধসভায় আলোচনা

বাদীকেই ফোন দিয়ে খবর নেবে ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাদীকেই ফোন দিয়ে খবর নেবে ডিএমপি

থানায় মামলা করার পর ভুক্তভোগী বাদী নিজেই পুলিশের পেছনে পেছনে ঘোরেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ (আইও) পুলিশের কর্মকর্তাদের ফোন করে খোঁজ-খবর নিতে হয় বাদীকেই। অনেক সময় মামলার তদন্তের অগ্রগতির ব্যাপারে বাদীকে কোনো তথ্য না জানানোর অভিযোগও মেলে। এবার বিপদগ্রস্ত বাদীর এই হয়রানি লাঘবের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর ৫০টি থানার কোথাও মামলা হলে সেই বাদীর ভালো-মন্দের খোঁজ নেওয়া হবে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে। পাশাপাশি বাড়বে মামলার তদন্তের তদারকি। গতকাল শনিবার ডিএমপির মাসিক অপরাধসভায় এ প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর মোহা. শফিকুল ইসলাম গতকালই প্রথম অপরাধসভায় অধীন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সভায় ওয়ারেন্ট তামিল, পেন্ডিং মামলা ও নিখোঁজ ব্যক্তির ডায়েরি (জিডি) দ্রুত তদন্তে গুরুত্ব দেন নতুন কমিশনার। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার পর পুলিশ সেখানে গিয়ে উদ্ধারের কাজে বাধার মুখে পড়ে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনায় পুলিশ কিভাবে দ্রুত গিয়ে কাজ করবে, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দেশনা তৈরির বিষয়টি সভায় আলোচিত হয়। মাদকদ্রব্য উদ্ধারে কৃতিত্ব বিবেচনায় ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’ হয় বলেও আলোচনা হয়েছে।

অপরাধসভায় অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পুলিশি সেবা বাড়ানোর বিষয়ে এ সভায় বেশি আলোচনা হয়েছে।’ সূত্র জানায়, আদালত থেকে থানায় ওয়ারেন্ট গেলে অনেক সময় তা পরে থাকে। এতে অপরাধী সুযোগ নেয়। এ কারণে ওয়ারেন্ট দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ জিডির ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো হয় না। তাই নিখোঁজ জিডির কপি দ্রুত ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে পাঠানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করবে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তা নিয়ে। থানায় থাকা জিডির তদন্ত ঊর্ধ্বতনরা তদারকি করবেন। মাদকদ্রব্য উদ্ধার মামলা দিলে পুলিশ কর্মকর্তারা পারফরমেন্স পয়েন্ট পান। তাই এক অভিযানের আলামত দিয়ে একাধিক মামলা দায়েরের অভিযোগ ওঠে। একজন অতিরিক্ত কমিশনার মাদক মামলায় এই পারফরমেন্স পয়েন্ট বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

সূত্র মতে, আবরার হত্যায় পুলিশের কাজে বাধার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও সাম্প্রতিক আলোচিত ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে অপরাধসভায় তেমন আলোচনাই হয়নি।

ঢাকায় বাসাবাড়িতে যেসব গৃহকর্মী কাজ করে তাদের সবার বিস্তারিত পরিচয় থাকে না। অপরাধ সংঘটিত হলেও এদের হদিস মেলে না। তাই গৃহকর্মীদের পরিচয় যাচাইয়ে থানা সহায়তা দিতে পারে বলেও আলোচনা হয়। ফ্ল্যাট কেনা এবং বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়াতে ডিএমপি কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও আলোচনা করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সহকারী কমিশনার (এসি), অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও উপকমিশনাররা (ডিসি) নিয়মিত থানা পরিদর্শন করবেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা রেজিস্টার মেনে কাজের তদারকি করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়। অপরাধসভায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার, সব বিভাগের ডিসি, থানার ওসিসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা