kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বুয়েট প্রশাসনের পদক্ষেপ

ছাত্রলীগের দুই নেতার কক্ষ সিলগালা

বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বুয়েট ছাত্রলীগের অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাত্রলীগের দুই নেতার কক্ষ সিলগালা

আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের রুম সিলগালা করে দেওয়া হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি জামী উস সানী ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের কক্ষ দুটি সিলাগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বুয়েট ছাত্রলীগের অফিস কক্ষটিও বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক মীজানুর রহমানের নেতৃত্বে কক্ষগুলো সিলগালা করা হয় গতকাল শনিবার দুপুরে।  আন্দোলনের পঞ্চম দিনে গত শুক্রবার বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, আসামি শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কারসহ শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেন উপাচার্য। তবে ভর্তি পরীক্ষার কথা চিন্তা করে ১০টির মধ্যে পাঁচটি দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন ও নোটিশ চান শিক্ষার্থীরা। ওই সব দাবি পূরণ হলেই ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল পাঁচটি নোটিশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে গতকাল হলগুলো থেকে বহিরাগতদের উত্খাত এবং ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে নানা উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসব পদক্ষেপ দেখেই ভর্তি পরীক্ষার জন্য আজ রবিবার ও কাল সোমবার আন্দোলন শিথিল করেন শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে তিতুমীর ও আহসানউল্লা হলের জন্য ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা কেনা হয়েছে এবং সেগুলো লাগানো হচ্ছিল। পাশাপাশি নষ্ট হয়ে থাকা বেশ কিছু ক্যামেরা পরিবর্তন করে নতুন ক্যামেরা লাগানো শুরু হয়। অবৈধ ছাত্রদের উত্খাত করতে শেরেবাংলা হল, কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল, আহসানউল্লা হল ও তিতুমীর হলে অভিযান শুরু হয়েছে। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি জামী উস সানীর আহসানউল্লা হলের ৩২১ নম্বর কক্ষ, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের শেরেবাংলা হলের ৩০১২ নম্বর কক্ষটি সিলগালা করা হয়েছে। এ ছাড়া আহসানউল্লা হলের ১২১ নম্বর কক্ষে হল ছাত্রলীগের অফিসও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি শেরেবাংলা হলে অবৈধভাবে সিট দখল করে রাখা শিক্ষার্থীদের গতকাল দুপুর ১২টার মধ্যে সিট ছেড়ে হল ত্যাগ করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে একটি ওয়েব বেইসড পোর্টাল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হওয়ায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার প্রমাণস্বরূপ একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি এরই মধ্যে বৈঠক করেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এটি বাস্তবায়িত হবে বলে জানা গেছে।

কক্ষ সিলগালার বিষয়ে বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি জামী উস সানী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শনিবার সকালে রুমেই ছিলাম। স্যাররা এসে আমার রুম সিলগালা করে দেন। আহসানউল্লা হলের ১২১ নম্বর কক্ষে হল ছাত্রলীগের অফিস ছিল। সেটিও সিলগালা করা হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব অছাত্রের হল থেকে উচ্ছেদ চলছে। আমরা সহযোগিতা করব।’

ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মীজানুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ ছাত্রদের রুম সিলগালা করতে শুরু করেছি। প্রথম দিন আমরা কয়েকটি হলের তিন-চারটি রুম সিলগালা করেছি। হলে ছাত্রত্বের বৈধতা না থাকায় তাদের রুমগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়। এই অভিযান চলমান থাকবে এবং অন্য হলগুলো প্রভোস্টের নেতৃত্বে সিলগালা করে দেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা