kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কালের কণ্ঠ-ওরিয়ন গোলটেবিল আলোচনায় পূর্তমন্ত্রী

বাসযোগ্য নগর গঠনে তৈরি হবে মাস্টারপ্ল্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাসযোগ্য নগর গঠনে তৈরি হবে মাস্টারপ্ল্যান

কালের কণ্ঠ-ওরিয়ন আয়োজিত ‘বাসযোগ্য নগর গঠনে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রিত অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কৃষিজমি ধ্বংস করে গ্রামেও নিজের খেয়াল-খুশিমতো ভবন তৈরি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। সে লক্ষ্যে সরকার দেশজুড়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ করছে। গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠ-ওরিয়ন আয়োজিত ‘বাসযোগ্য নগর গঠনে করণীয়’ শীর্ষ গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। কালের কণ্ঠ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনার সঞ্চালনা করেন পত্রিকাটির সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন। এ ছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন কালের কণ্ঠ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল ও ওরিয়ন গ্রুপের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম এইচ খান।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় বহুতল ভবন তৈরির একটি প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির জন্য পাঠানো হয়েছিল। প্রকল্পটি তৈরি হলে হাতিরঝিলের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী তা পদ্মার পারে নিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিবেশের প্রতি যথেষ্ট সচেতন প্রধানমন্ত্রী। গ্রামে কৃষিজমি নষ্ট করে যত্রতত্র ভবন তৈরি না করার নির্দেশনা গত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তিনি দিয়েছেন। সারা দেশের ভবন পরিকল্পিতভাবে করার লক্ষ্যে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে।’

কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘রাজধানী বাসযোগ্য করার ক্ষেত্রে সবার অংশগ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

স্বাগত বক্তব্যে কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘পরিবেশদূষণের কারণে রাজধানী বাসযোগ্য হচ্ছে না। যানজট একটা বড় সমস্যা। ফ্লাইওভার ও মেট্রো রেলের মতো উন্নয়নকাজ হচ্ছে। কিন্তু শুধু ভবন তৈরি করলে হবে না। পরিকল্পনা ঠিক রাখতে হবে।’

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘অবৈধভাবে ভবন তৈরি করলে শান্তিতে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। রাজউক উচ্ছেদ অভিযান চালায় নিয়মিত। তাই আইন না মেনে ভবন তৈরি করে শান্তি ও নিজের বিনিয়োগ নষ্ট করবেন না।’ জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘স্বপ্ননগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আধুনিক নগরায়ণের লক্ষ্যে বর্জ্য ও পয়োবর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে কোনো নগরায়ণ করতে দেওয়া হবে না।’

বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলডিএ) মহাসচিব মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন বলেন, ‘বাসযোগ্য নগর গঠন করতে হলে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি আমি। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে প্রণয়ন করা উচিত। এতে আমাদের সবার সহযোগিতা থাকবে।’

রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন হলেও বস্তিবাসীদের জন্য তেমন কিছুই করা হয়নি। তারা পানি, খাবার এবং অন্যান্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। অথচ তারা না থাকলে এই শহর অচল হয়ে যাবে।’

ওরিয়ন গ্রুপের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম এইচ খান বলেন, ‘শহর বলতে শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশের যেকোনো শহরই হতে পারে। বাসযোগ্য নগর গঠনে নীতি আছে; কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গাফিলতি রয়েছে। রাস্তা পরিষ্কার করে ময়লাগুলো রাখা হয় রাস্তার পাশেই। ফলে বায়ুদূষণ ঘটে।’

গোলটেবিল আলোচনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর মঞ্জুর আহমেদ, ওরিয়ন গ্রুপের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট উইং কমান্ডার (অব.) এরফানুল আজীম, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুলফিকার হোসেন, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল রিসার্চ অফিসার মো. আকতার হোসেন সরকার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আজিম বখশ, রাজউকের পরিকল্পনাবিদ ও ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) আব্দুল লতিফ হেলালী, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহ উদ্দিন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শরীফ উদ্দীন, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুন নেওয়াজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, অন্যান্য দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার বাজেটে বরাদ্দ রাখে; কিন্তু বাংলাদেশে তা করা হয় না। এ ছাড়া আবাসন প্রকল্প গ্রহণের সময় জলাধার, সবুজায়ন এবং জনবান্ধব অবকাঠামো থাকা উচিত। একই সঙ্গে ঢাকার ট্রাফিক অবকাঠামো আরো উন্নত করা, ভবন তৈরির ক্ষেত্রে আইন মানতে বাধ্য করা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার স্বাচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা