kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকরা থাকেন বাইরে

অভিভাবকহীন ববি ক্যাম্পাস!

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভিভাবকহীন ববি ক্যাম্পাস!

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে তিনটি হোস্টেল রয়েছে। এর মধ্যে মেয়েদের জন্য শেখ হাসিনা হল এবং ছেলেদের জন্য বরাদ্দ বঙ্গবন্ধু হল ও শেরে বাংলা হল। হল তিনটিতে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে থাকছেন দেড় হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু ক্যাম্পাসে দায়িত্বশীল শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক অবস্থান না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তাঁরা। জরুরি কোনো প্রয়োজনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনই একমাত্র ভরসা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুরক্ষার জন্য রয়েছে নিয়মমাফিক প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষক, সহকারী আবাসিক শিক্ষক, সেকশন অফিসার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ। প্রতিটি হলে বরাদ্দকৃত পদ পূর্ণ রয়েছে। তাঁদের থাকার জন্য হোস্টেলগুলোর নিচতলায় কক্ষও রয়েছে। কিন্তু তাঁরা কেউই সেখানে অবস্থান করেন না।

শেখ হাসিনা হলের শিক্ষার্থীরা জানান, প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকদের কেউই হলে থাকেন না। এ অবস্থায় বিশেষত রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে সহপাঠীদেরই সব দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিশেষ করে তাঁরা সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। আবার একজন চিকিৎসক থাকলেও তাঁকে নিয়মিত পাওয়া যায় না।

হলের চারদিকে যথাযথভাবে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় দিনের বেলায়ও ঘটছে চুরির ঘটনা। পুরো হলের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র দুজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। আবার রাতের বেলা হলের ভেতরে নারী নিরাপত্তাকর্মী থাকার কথা থাকলেও পুরো বিষয়টিই চলছে উল্টোভাবে। ভেতরের গেটে থাকছে পুরুষ আর বাইরের গেটের দায়িত্বে রাখা হচ্ছে নারী সদস্যকে।

বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, হলের ভেতরে এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা এসেও তাতে জড়িয়েছেন। ঘটছে চুরির ঘটনাও। আবার আবাসিক শিক্ষার্থী না হয়েও শেরে বাংলা হলের নিচতলার ১০০১ নম্বর কক্ষটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। অথচ কক্ষটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল নাট্যকলার শিক্ষার্থীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্র হল দুটিতে নির্ধারিত আবাসিক শিক্ষক মাঝেমধ্যে থাকলেও ছাত্রী হোস্টেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা ছাড়া আর কেউই থাকেন না। শেরে বাংলা হলে আবাসিক শিক্ষক ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইয়াসিফ আহমদ ফয়সল থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছুটিতে আছেন।

বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাহাত হোসাইন ফয়সাল এ ব্যাপারে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে পৃথক আবাসনব্যবস্থা না থাকায় প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকরা বাধ্য হয়েই পরিবার-পরিজন নিয়ে বাইরে থাকছেন। আবাসনব্যবস্থা হলে এই সমস্যা থাকবে না। তা ছাড়া হলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আমরা দায়িত্বশীলরা স্বল্প সময়ের মধ্যেই ক্যাম্পাসে চলে আসি এবং সমস্যা সমাধানে কাজ করি। এর জন্য রাত বা দিনের হিসাব করা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘হলে দায়িত্বশীল কেউ থাকেন না—এমন ঢালাও অভিযোগও সঠিক নয়। প্রতিটি হলের নিচতলায় প্রভোস্টের অফিস কক্ষে আবাসিক শিক্ষকরা জায়গা ভাগাভাগি করে থাকছেন। সব শিক্ষার্থী হয়তো বিষয়টি খেয়াল করতে পারেনি। যেমন—বর্তমানে সহকারী আবাসিক শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বঙ্গবন্ধু হলে থাকছেন।’

শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট চিন্ময়ী পোদ্দার বলেন, ‘আবাসন সংকটের কারণে প্রভোস্টরা হোস্টেলে থাকতে পারেন না। আর আবাসিক শিক্ষকদের জন্য হলের ভেতরে সামান্য ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকা যাবে না। কারণ এটি ছাত্রী হোস্টেল। তবে ছাত্রীদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে আবাসিক শিক্ষকরা সচেষ্ট আছেন।’

প্রক্টর সুব্রত কুমার দাস বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করেছে অল্প কিছুদিন আগে। অনেক প্রকল্পই চলমান। উপাচার্য, প্রক্টর, প্রভোস্টদের জন্য আবাসনব্যবস্থা হচ্ছে। আবার যেটুকু হয়েছে তাও এখন পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আবাসনব্যবস্থা হলে অবশ্যই প্রক্টর-প্রভোস্টরা ক্যাম্পাসে থাকবেন। আর নানা সংকটের মধ্যেও যেকোনো সমস্যার সমাধান অল্প সময়েই করা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা