kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব

প্রধানমন্ত্রী থাকবেন সমাপনী দিনে

সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক প্রতিযেগিতা অনুষ্ঠিত

সিলেট অফিস   

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রী থাকবেন সমাপনী দিনে

ফাইল ছবি

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট আগমনের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিলেটে উদ্‌যাপিত হচ্ছে ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’। উৎসবের অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। এটিকে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

বছরব্যাপী উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান হবে আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল সকালে শুরু হয় ছয়টি বিভাগে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ পর্ষদের আহ্বায়ক ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের চার জেলা সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের ১ হাজার ৭০০ প্রতিযোগী অংশ নেন। সংগীত, নৃত্য, রচনা, আবৃত্তি, অভিনয় ও চিত্রাঙ্কন—এই ছয়টি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় চারটি ভেন্যুতে। এর মধ্যে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংগীত প্রতিযোগিতা, সারদা স্মৃতি ভবন ও সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে আবৃত্তি, নৃত্য ও অভিনয়, সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে চিত্রাঙ্কন ও রাজা জিসি উচ্চ বিদ্যালয়ে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলীর দায়িত্ব পালন করেন ২৪ জন বিচারক। অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব পালন করেন ১০০ জন সংস্কৃতিকর্মী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পর্ষদের সদস্যসচিব ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আজ থেকে শতবর্ষ পূর্বে রবীন্দ্রনাথকে সিলেটে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি এসেছিলেন। সিলেটের বিভিন্ন স্থানে তিনি গিয়েছিলেন, বক্তব্য দিয়েছিলেন। স্মৃতি রেখে গেছেন। আমরা সেই স্মৃতি রোমন্থন করতে চাই আগামী মাসে।’

অনুষ্ঠানটিকে সর্বজনীন করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে মুহিত বলেন, ‘দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথের আগমনের শতবর্ষের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হবে। এতে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। দেশি-বিদেশি অতিথিরা আসবেন—এটি আমাদের জন্য ভাগ্যের বিষয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘সম্মিলিতভাবে উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিলেটে সংস্কৃতির এক বড় ধরনের জাগরণ ঘটবে।’

শতবর্ষ স্মরণোৎসব পর্ষদের যুগ্ম সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম লিটন ও মিশফাক আহমদ মিশুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, শতবর্ষ স্মরণোৎসব পর্ষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবজিৎ সিংহ ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ।

বিপুলসংখ্যক প্রতিযোগী ও তাঁদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে চারটি ভেন্যু সারা দিনই উৎসবমুখর ছিল। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে সংস্কৃতিকর্মীদের মিলনমেলায় রূপ নেয় ভেন্যুগুলো। উদ্বোধন শেষে আবুল মাল আবদুল মুহিত ভেন্যুগুলো ঘুরে দেখেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বছরব্যাপী ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ প্রথম পর্যায়ে গত ৩ জুলাই বর্ণাঢ্য আয়োজনে লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়। গতকাল সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হয়। এর আগে হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

উৎসবকে সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের রাজনৈতিক দল এবং বিকেলে সিলেটের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক আবুল মাল আবদুল মুহিত। সভায় জানানো হয়, আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে দুই দিনব্যাপী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় উৎসব পর্ষদের সদস্যসচিব ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘উৎসবের মূল অনুষ্ঠানের আগে ১ নভেম্বর সিলেটে রবীন্দ্র শতবর্ষ স্মরণোৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা