kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

সাত বছরেও শেষ হয় না স্নাতক

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাত বছরেও শেষ হয় না স্নাতক

ভয়াবহ সেশনজটের কবলে পড়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ বিভাগ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। চার বছরের স্নাতক কোর্স শেষ করতে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাত বছর।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাব, জবাবদিহি না থাকা ও স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি, বিভিন্ন পদের জন্য লবিংয়ে ব্যস্ত থাকা, পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করার ক্ষেত্রে দেরি ও জটিলতা এবং নিয়মমাফিক ক্লাস-পরীক্ষার রুটিন না থাকাই সেশনজটের কারণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ অবশ্য সেশনজট নিরসনে তাঁর আন্তরিকতার কথা জানিয়েছেন। উপাচার্য বলেন, ‘নতুন করে সেশনজট তৈরি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেটা রয়েছে তা কমিয়ে শূন্যের কোঠায় আনা হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চার বছরের স্নাতক এবং এক বছরের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করতে সময় লাগছে সাত থেকে আট বছর। ফলে পড়ালেখা থেকে অনেকটা ছিটকে পড়েছেন তাঁরা। এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষকদের একগুঁয়েমির কারণে আমাদের জীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে ঢুকতেও পিছিয়ে পড়ছি আমরা।’

জানা যায়, সেশনজটের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, গণিত বিভাগ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, রসায়ন বিভাগ, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, বাংলা বিভাগ, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এক থেকে আড়াই বছরের বেশি সময় সেশনজট আছে ওই সব বিভাগে। বেশির ভাগ বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনো শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারেননি। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সাড়ে ছয় বছরে শুধু ষষ্ঠ সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়েছে তাঁদের। বিভাগের অন্যান্য ব্যাচের চিত্রও প্রায় একই।

এদিকে সেশনজট বেড়েই চলছে কলা অনুষদের তিনটি বিভাগে। ওই অনুষদে সেশনজটে শীর্ষে আছে ইংরেজি বিভাগ। বিভাগটির ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা এখনো ষষ্ঠ সেমিস্টারে। তবে এক বছরের সেশনজট নিয়ে এক সেমিস্টার এগিয়ে আছে ওই শিক্ষাবর্ষের বাংলা এবং ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে এক থেকে দেড় বছরের সেশনজটে রয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, অর্থনীতি বিভাগ, সমাজবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন বিভাগ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। এই অনুষদের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগ বিভাগ রয়েছে সপ্তম সেমিস্টারে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মূলত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক কম থাকায় ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে ব্যস্ত থাকেন নবীন শিক্ষকরা। প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও একাডেমিক কার্যক্রমে উদাসীন তাঁরা। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে বাড়ছে কোন্দল। সেশনজট নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই তাঁদের।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষকদের হাতে থাকা ৫০ নম্বর। এর কারণে শিক্ষার্থীরা নম্বর কম পাওয়ার ভয়ে শিক্ষকদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান অবশ্য বলেন, শিক্ষকস্বল্পতা সেশনজটের অন্যতম কারণ। বেশির ভাগ বিভাগেই পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষকদের অধিক বিষয়ে পড়াতে হচ্ছে। ফলে আপ্রাণ চেষ্টা করেও শিক্ষকরা সেশনজট কমাতে পারছেন না।

সেশনজট নিরসনের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে দ্রুত ফল প্রকাশসহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এরই মধ্যে। শিক্ষকরা সঠিক সময়ে ক্লাস-পরীক্ষা সম্পন্ন করলে সেশনজট নিরসন সম্ভব বলে জানান তিনি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা