kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ভারতের সংবাদমাধ্যমের মূল সুর

এবার ভারতের করে দেখানোর পালা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার ভারতের করে দেখানোর পালা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর শেষে ভারতের বেশ কয়েকটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম বিতর্কিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি প্রশ্নে ভারতকে আরো স্বচ্ছতা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। শেখ হাসিনার সফরের পর মূলধারার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মূল বক্তব্য—এবার কিন্তু ভারতের করে দেখানোর পালা।

এনআরসি নিয়ে একদিকে সরকার যদি দুই রকম কথা বলে এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়—সেই দুটি একসঙ্গে সম্ভব নয় বলে সতর্ক করে দিয়েছে একাধিক সম্পাদকীয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মানচিত্রে চীনের উপস্থিতি আছে ও থাকবে, এটা মেনে নিয়েই ভারতের এগোনো উচিত—এমন পরামর্শও দিয়েছে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা।

বস্তুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে বিদায় নেওয়ার তিন দিন পরও ভারতের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সেই সফরের বিশ্লেষণ চলছে। সফরের চার দিন শেখ হাসিনা ভারতের প্রায় সব জাতীয় সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় ঠাঁই পেয়েছেন, আর সফর শেষে বিভিন্ন সম্পাদকীয় বা মন্তব্য প্রতিবেদনে এখনো চলছে ওই সফরের বিশ্লেষণ।

তবে সফরের সময় সই হওয়া বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির চেয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এনআরসি, যে প্রসঙ্গ দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখও করা হয়নি।

‘দ্য হিন্দু’ লিখেছে, বাংলাদেশ সরকার যদিও এখন পর্যন্ত ভারতের মুখের কথায় ভরসা রাখছে; কিন্তু তারা এনআরসি নিয়ে যে প্রশ্নগুলো তুলেছে সেগুলো উপেক্ষা করা দিল্লির জন্য মোটেও ঠিক হবে না।

‘দ্য হিন্দুস্তান টাইমস’ও প্রায় একই সুরে বলছে, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সেরা বন্ধু’ যদি এনআরসি প্রশ্নে উদ্বেগ বোধ করে, তাহলে দিল্লির উচিত হবে অঙ্কুরেই সেটা বিনাশ করা। পত্রিকাটি অবশ্য একই সঙ্গে তিস্তা চুক্তির প্রশ্নেও ভারতকে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দিল্লিতে বাংলাদেশ গবেষক ডঃ শ্রীরাধা দত্ত বলছিলেন, ভারতীয় মিডিয়ায় এ ধরনের পর্যবেক্ষণ বেশ ইতিবাচক একটা পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। ডঃ দত্তর কথায়, ‘এবার দেখে ভাল লাগছে যে অনেক বেশি খোলা মন নিয়ে ও একটা ন্যায্যতার দৃষ্টিতে ভারতীয় মিডিয়া দুদেশের সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করছে। বলা যেতে পারে, বিষয়টা একতরফাভাবে পরিবেশিত হচ্ছে না।’

টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, এনআরসি ইস্যু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের  ক্ষেত্রে একটি স্ট্রেইন বা উত্তেজনার কারণ; এই অভিযান বন্ধ করে ভারতের উচিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার ‘গ্রোথ ইঞ্জিন’ বাংলাদেশ থেকে অর্থনীতির পাঠ নেওয়া।

আবার এনআরসিকে যেভাবে সরকার একদিকে অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলে বর্ণনা করছে আবার অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবৈধ বিদেশিদের বাংলাদেশে ডিপোর্ট করার হুমকি দিচ্ছেন, এই দ্বিচারিতার কড়া সমালোচনা করেছে ‘স্ক্রল’ পোর্টাল।

এই পটভূমিতেই শ্রীরাধা দত্ত বলছিলেন, ‘স্ববিরোধিতা তো আছেই। আর সেখানে এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আপনাদের ও নিয়ে ভাবতে হবে না বললেই কিন্তু সব কিছু মিটে যায় না।’ তিনি বলেন, ‘বস্তুত আমার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরগুলোতে ওদেশের মিডিয়া, অ্যাকাডেমিয়া বা নীতিনির্ধারক সবার কাছ থেকে প্রথমেই আমাদের যে প্রশ্নটার মুখোমুখি হতে হয়েছে তা কিন্তু এনআরসি। এখন ভারতীয় মিডিয়াও যে তাদের এই উদ্বেগটা অনুধাবন করেছে, সেটা অবশ্যই একটা ইতিবাচক দিক।’

বাংলাদেশ উপকূলে ভারতের রাডার সিস্টেম বসানোর পটভূমিতে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ কমোডর উদয় ভাস্কর আবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লিখেছেন। নিবন্ধটির শিরোনাম হলো ‘ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে দিল্লিকে এটা মেনে নিতে হবে যে বাংলাদেশে চীনেরও একটা উপস্থিতি আছে’।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘চীন থেকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সরঞ্জাম পেয়ে থাকে যেসব দেশ, সেই তালিকার ওপর দিকেই আছে বাংলাদেশ। সেখানে আরো আছে পাকিস্তান বা মিয়ানমারও।’ তিনি বলেন, ‘এখন আমি যেটা বলতে চেয়েছি, চীন থেকে সাবমেরিন পাওয়ার পর বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সামর্থ্য নিঃসন্দেহে অনেক বেড়েছে আর সেটা ভারতকেও নিশ্চয় উদ্বিগ্ন করবে। কিন্তু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চীনের এই উপস্থিতি একটা বাস্তবতা—এটাতে বিরক্ত বোধ না-করেই ভারতকে তা ডিল করার উপায় খুঁজতে হবে।’

উদয় ভাস্কর আরো বলেন, ‘হয় আমরা, নয়তো চীনের মধ্য থেকে বেছে নাও—বাংলাদেশকে সেদিকে ঠেলে দেওয়া ঠিক হবে না।’

ঢাকায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত দেব মুখার্জিও ওই পত্রিকায় তাঁর মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় রাখতে চাইলে দিল্লিকে যে ‘আরও অনেক বেশি কিছু করতে হবে’ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা