kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

মোটরযান চলাচল নিয়ে সিদ্ধান্ত

বিবিআইএন না এগোলে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি

চুক্তি হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সরাসরি মোটরযান চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে

মেহেদী হাসান   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিবিআইএন না এগোলে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে মোটরযান চলাচলের উদ্যোগ প্রত্যাশিত গতিতে না এগোলে বাংলাদেশ ও ভারত দ্বিপক্ষীয়ভাবে এ চুক্তি সই করবে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সরাসরি মোটরযান চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে। গত শনিবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।

২০১৫ সালের ১৫ জুন ভুটানের থিম্পুতে বিবিআইএন সড়ক বা পরিবহনমন্ত্রীরা বিবিআইএন মোটরযান চলাচল চুক্তি সই করেছিলেন। চার দেশের সবাই ওই চুক্তি অনুসমর্থন করার পর তা কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু ভুটান এখনো ওই চুক্তি অনুসমর্থন করতে পারেনি। এর ফলে ওই চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ স্থবির হয়ে পড়েছে। গত মার্চ মাসে ঢাকায় বাংলাদেশ-ভুটান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ওই চুক্তি অনুসমর্থনের জন্য ভুটানকে তাগিদ দিয়েছিল। এবার বাংলাদেশ ও ভারত এ নিয়ে খুব বেশি অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের মধ্যে যান চলাচল শুরু করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজ নিজ দেশে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন মেয়াদে সরকার গড়ার পর গত শনিবার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ওই বৈঠকে তাঁরা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সর্বোচ্চ গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে তার সর্ববৃহৎবাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্য এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি ৫২ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারতের সর্ববৃহৎউন্নয়ন অংশীদার। ভারত এরই মধ্যে বাংলাদেশকে ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার রেয়াতি ঋণ দিয়েছে। ভারত ভ্রমণকারী বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই সর্বোচ্চ। গত এক বছরে ভারত বাংলাদেশিদের প্রায় ১৫ লাখ ভিসা দিয়েছে। ওই ভিসাগুলোর প্রায় সবই ‘মাল্টিপল’ (একাধিকবার ভ্রমণের জন্য) ও দীর্ঘমেয়াদি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, বাংলাদেশিদের ভারতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসায় স্থলবন্দর নির্দিষ্ট থাকা এবং সে অনুযায়ী যাতায়াতের যে বিধিনিষেধ ছিল তা পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন বাংলাদেশিদের ভারতীয় ভিসায় যে রুটই উল্লেখ থাকুক না কেন তারা আখাউড়া (ত্রিপুরা) ও খোজাডঙ্গা (পশ্চিমবঙ্গ) সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। এর আগেই বেনাপোল ও দর্শনা স্থলসীমান্ত এবং রেল ও আকাশপথে এ সুযোগ চালু হয়েছে।

ভারতের চেন্নাইয়ে বাংলাদেশের উপহাইকমিশন খোলার অনুমতি দিয়েছে ভারত। এটি দুই দেশের মধ্যে মানুষে মানুষে যোগাযোগ আরো বাড়াতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে, ‘মেডিক্যাল ট্যুরিজমের’ জন্য চেন্নাই যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এতে উপকৃত হবে।

এবার বাংলাদেশ-ভারত শীর্ষ বৈঠকে সীমান্তে বেসামরিক জনগণের মৃত্যুর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। উভয় পক্ষই সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এ সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে।

ভারতের বাণিজ্য ও রেলমন্ত্রী পীযুষ গয়াল তাঁর দেশের শীর্ষ ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার থেকে বাংলাদেশ মাশুল পাবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলপিজি রপ্তানিসহ বাণিজ্য জোরদার করার আরো সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নয়াদিল্লি সফরে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা