kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

পাঁচ মাস ধরে অভিভাবকহীন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাঁচ মাস ধরে অভিভাবকহীন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রায় পাঁচ মাস ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদ শূন্য। ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদও শূন্য রয়েছে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্মে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আগামী ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলছেন, উপাচার্য নেই, এই কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতির বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া যায়নি। উপাচার্য না থাকায় নিয়মিত সিন্ডিকেটের সভা হচ্ছে না। একই কারণে ওই সব নথিতে উপাচার্যের সই হচ্ছে না। প্রকল্পের কাজের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে জমা না পড়ায় বরাদ্দ অর্থও ছাড় হচ্ছে না। ফলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি ভবন, উপাচার্যের বাসভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা ঝুলে আছে।

প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের এ অচলাবস্থা কাটাতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া দরকার বলে শিক্ষক-ছাত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে চা চক্রের আয়োজন করেন উপাচার্য এস এম ইমামুল হক। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানালে উপাচার্য তাঁদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য ইমামুল হককে ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে ১১ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। এই সময়কালে ট্রেজারার এ কে এম মাহবুব হাসান নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন বলে আদেশে বলা হয়। একই দিন (২৬ মে) উপাচার্যের কার্যকালের মেয়াদও (চার বছর) শেষ হয়েছে। সেই থেকেই ট্রেজারার মাহবুব উপাচার্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত সোমবার ট্রেজারার পদে তাঁর মেয়াদও শেষ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নৈতিক স্খলনের দায়ে গত ৯ এপ্রিল রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ড. হাসিনুর রহমান ছুটি নিয়ে ১১ মে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তিনি অনুমোদনহীন ছুটি নিয়ে এখনো অনুপস্থিত রয়েছেন। এর পর থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার সানজিয়া খানম রুটিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনিও আগস্ট মাস থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর পরিবর্তে আরেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মিলন ওই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ ছাড়া গত রবিবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এ কে এম ফজলুল হকের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিনের পদ জুন মাস থেকেই শূন্য। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ওই দুটি পদের দায়িত্বে ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানের সমস্ত প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব মূলত রেজিস্ট্রারের ওপর ন্যস্ত। গুরুত্বপূর্ণ এ পদ শূন্য থাকায় অক্টোবরের পর কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, তিনটি ইউনিটে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) কোর্সের প্রথমবর্ষে ভর্তি আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। ভর্তির আবেদন ফরম বিক্রি শেষ হয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর। প্রায় দেড় হাজার আসনে ভর্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে ৪০ হাজারের বেশি।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বলছেন, উপাচার্য কিংবা ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার ছাড়া এই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। ট্রেজারারের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। ভর্তি কার্যক্রম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার জন্য এ দুটি পদের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ আশা করছেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদ শূন্য হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। শুধু তাই নয়, আগামী ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ভর্তি পরীক্ষাও হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তবে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান ছাত্র-শিক্ষকসহ সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন। গত রবিবার তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।

অধ্যাপক মাহবুব আরো বলেন, ভর্তি পরীক্ষার বাকি আর ৯ দিন। পরীক্ষা নেওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। কারণ প্রশ্নপত্র তৈরিসহ বেশ কিছু আনুষ্ঠনিকতা রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে উপাচার্য নিয়োগ না হলে ভর্তি পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমন আশা করছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা