kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় দুই ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় দুই ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করতে নানামুখী উদ্যোগের কথা বললেও সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক সংস্থা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) তথ্য বলছে, এ বছর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশ আরো দুই ধাপ পিছিয়েছে। বিশ্বের ১৪১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম। ১০০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ৫২.১। আগের বছর ১৪০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছিল ১০৩তম। তার আগের বছর ছিল ১০২তম।

ডাব্লিউইএফের তথ্যানুযায়ী, আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডা, কেনিয়া, এশিয়ার স্থলবেষ্টিত দেশ মঙ্গোলিয়া, এমনকি হন্ডুরাস, গুয়েতেমালার মতো দেশেও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ বাংলাদেশের চেয়ে উন্নত। এক নম্বরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে এবার জায়গা করে নিয়েছে আগের বছর দুই নম্বরে থাকা সিঙ্গাপুর। আর দুইয়ে নেমে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে যথাক্রমে হংকং ও নেদারল্যান্ডস।

গতকাল বুধবার সারা বিশ্বে একযোগে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ডাব্লিউইএফ। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ২০০১ সাল থেকে ডাব্লিউইএফের পক্ষ হয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বিজয়নগরে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

একটি দেশে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ কতটা সহায়ক, সরকারের নীতি কৌশল, প্রতিষ্ঠান কতটা ব্যবসা সহায়ক এবং একজন ব্যবসায়ী প্রতিযোগিতা করতে কতটা সক্ষম—এসব বিষয় নিয়ে ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতিবছর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন তৈরি করে আসছে ডাব্লিউইএফ। ১২টি স্তম্ভ বা সূচকের ভিত্তিতে একটি দেশের সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়। সেগুলো হলো—প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো, তথ্য-প্রযুক্তির অভিযোজন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, পণ্য বাজার, শ্রমবাজার, আর্থিক ব্যবস্থা, বাজারের আকার, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও ব্যবসার গতিশীলতা। বাংলাদেশ কেন দুই ধাপ অবনমন হলো তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এ বছর ১২টি সূচকের মধ্যে দশটিতেই পতন হয়েছে। শুধু পণ্য বাজার ও স্বাস্থ্য এই দুটি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নতি হয়েছে। যে দশটিতে অবনমন হয়েছে তার মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি অভিযোজন ও অবকাঠামোতে মারাত্মক অবনতি হয়েছে।

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সুশাসনে মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, যেকোনো কাজ পেতে এখানে ঘুষ লেনদেন হয়। ৭৮ শতাংশ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, সরকারি কাজ পেতে তাঁদের ঘুষ দিতে হয়েছে। ৭৬ শতাংশ অভিযোগ করেছেন, পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে তাঁদের ঘুষ দিতে হয়েছে। কর পরিশোধ করতে ঘুষ দিয়েছেন বলে ৭৪ শতাংশ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন।

প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত না হওয়ায় সূচকে বাংলাদেশের অবনতি হচ্ছে বলে জানান খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

এদিকে প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশের ব্যবসা পরিবেশ নিয়ে একটি জরিপ করেছে সিপিডি। জরিপের সময়কাল ছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত। তাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের ৭৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালনা করা জরিপে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, আর্থিক খাতের নাজুক অবস্থার কারণে অভ্যন্তরীণ ব্যবসার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ৮০ শতাংশ ব্যবসায়ী টাকা পাচারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সিপিডি মনে করে, সরকারি সংস্থার মধ্যে ব্যাপক সংস্কার আনা জরুরি। যদিও এরই মধ্যে কিছু সংস্কার উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা অপ্রতুল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা