kalerkantho

রবিবার । ২৬ জানুয়ারি ২০২০। ১২ মাঘ ১৪২৬। ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রসায়নে তিন বিজ্ঞানীর নোবেল

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির উন্নয়নে নোবেল জয়

সাব্বির খান, সুইডেন থেকে   

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির উন্নয়নে নোবেল জয়

আজকের দিনে মোবাইল ফোন কিনতে গেলে অন্যতম যে বিষয়টি সবাই বিবেচনায় নেয় তা হলো এর ব্যাটারি কতটা শক্তিশালী, চার্জে কতটা সময় চলবে। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ল্যাপটপ, বৈদ্যুতিক গাড়িতে এ যুুগে ব্যবহৃত হয় ছোট অথচ শক্তিশালী লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, চার্জ দিয়ে যার শক্তির নবায়ন করা যায়, এমনকি সৌর ও বাতাস থেকে এটি শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে পারে। যুগান্তকারী এই ব্যাটারির উন্নয়ন ঘটানো তিন বিজ্ঞানীকে তাই ২০১৯ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার দিয়ে সম্মান জানিয়েছে নোবেল কমিটি। তাঁরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জন বি গুডএনাফ ও এম স্ট্যানলি হুইটিংহাম এবং জাপানের আকিরা ইউশিনো। তাঁদের মধ্যে গুডএনাফের বয়স ৯৭ বছর, যিনি সবচেয়ে বেশি বয়সে নোবেল পুরস্কার জিতলেন।

দ্য রয়েল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সের সেক্রেটারি জেনারেল গোরান কে হ্যানসন এই ত্রয়ীকে পুরস্কার দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে  ধরতে গিয়ে বলেন, “হালকা বহনযোগ্য, রিচার্জেবল এবং শক্তিশালী ব্যাটারি লিথিয়াম-আয়ন, যা মোবাইল ফোন থেকে ল্যাপটপ, বৈদ্যুতিক যানবাহন সর্বক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি সৌর ও বায়ু থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শক্তি সঞ্চয় করতে সক্ষম হয় বলে ‘জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত’ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। মানবসভ্যতার সামনে এই অসীম সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন এই তিন বিজ্ঞানী। তাঁরা এই ব্যাটারির অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করায় ভবিষ্যতে জীবাশ্ম জ্বালানিযুক্ত শক্তির ব্যবহার কমে আসবে।”

গতকাল বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টায় স্টকহোমের ক্যারোলিন্সকা ইনস্টিটিউট থেকে এই পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সত্তরের দশকে বিশ্বব্যাপী যখন তেল সংকট দেখা দিয়েছিল, তখন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উন্নয়নে নামেন বিজ্ঞানীরা। স্ট্যানলি হুইটিংহাম (৭৭) জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত প্রযুক্তির চিন্তা নিয়ে এগোতে থাকেন। তিনি ‘সুপার-কন্ডাক্টর’ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে অত্যন্ত শক্তিসমৃদ্ধ একটি উপাদান আবিষ্কার করেন, যা পরে লিথিয়াম ব্যাটারির ক্যাথোড তৈরির কাজে ব্যবহার করে সফল হয়েছিলেন। এটি মূলত টাইটানিয়াম ডিসালফাইড থেকে তৈরি হয়েছিল।

জন গুডএনাফ ভিন্ন এক সম্ভাবনার কথা ভেবেছিলেন। তিনি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, ক্যাথোডে যদি ধাতব-সালফাইডের পরিবর্তে ধাতব-অক্সাইড ব্যবহার করা হয় তাহলে তা আরো শক্তিশালী এবং কার্যকর হবে। ১৯৮০ সালে তিনি কোবাল্ট অক্সাইড ব্যবহার করে চার ভোল্টের লিথিয়াম ব্যাটারি গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করেন। ক্যাথোড ফর্মুলাকে ভিত্তি ধরে আকিরা ইউশিনো ১৯৮৫ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

জন বি গুডএনাফ ১৯২২ সালে জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনের টেক্সাস ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনায় নিয়োজিত।

স্ট্যানলি হুইটিংহাম ১৯৪১ সালে যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৮ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিঙ্গহ্যামটন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।

আকিরো ইউশিনো (৭১) জাপানের সুইতায় ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৫ সালে জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি আসাহি-কাসেই করপোরেশনে একজন অনারারি ফেলো হিসেবে নিয়োজিত থাকা ছাড়াও জাপানের মেইজো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন।

আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে এই তিন নোবেল বিজয়ীর প্রত্যেককে একটি করে সোনার মেডেল, নোবেল ডিপ্লোমা এবং ৯ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার সমান তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে। আজ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় স্টকহোমের দ্য রয়েল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স থেকে সাহিত্যে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা