kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

আড়াইহাজারে পুলিশের পোশাক পরে মার্কেটে ভয়াবহ ডাকাতি

► মাত্র ৫০-৬০ গজ দূরেই পুলিশ ফাঁড়ি
► তিনটি সোনার ও একটি মোবাইল ফোন দোকানের সব লুট

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আড়াইহাজারে পুলিশের পোশাক পরে মার্কেটে ভয়াবহ ডাকাতি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় পুলিশের পোশাক পরে এক দল ডাকাত একটি মার্কেটের দুজন নৈশপ্রহরীর হাত-পা বেঁধে তিনটি সোনার ও একটি মোবাইল ফোন দোকানের সব মালামাল নিয়ে গেছে। উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের রাধানগর এলাকার মার্কেটটির মাত্র ৫০ থেকে ৬০ গজ দূরেই পুলিশ ফাঁড়ি। ডাকাতরা পাশের মেঘনা নদীপথে স্পিডবোটে এসে ডাকাতি করে আবার স্পিডবোটে করে চলে যায় বলে নৈশপ্রহরীরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ডাকাতরা তিনটি সোনার দোকান থেকে ৯০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৭৫ কেজি রুপা, নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন দোকানের প্রায় ৫০টি মোবাইল ফোনসেট লুট করে নিয়ে গেছে। নগদ টাকাসহ ৭০ লাখ টাকার মালামাল তারা লুটে নিয়ে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করে। গত সোমবার রাত আড়াইটায় উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের রাধানগর এলাকার মার্কেটে এই ডাকাতি সংঘটিত হয়।

সোনার দোকানের মালিক উজ্জল বলেন, ‘প্রতিদিনের ন্যায় কাজ শেষ করে রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। গভীর রাতে মার্কেটের প্রহরী আব্দুল ও হাশেমের হাত-পা বেঁধে ৩০/৩৫ জনের ডাকাতদল মার্কেটের তিনটি স্বর্ণের দোকান ও একটি মোবাইলের দোকানের তালা ভেঙে ডাকাতি করে। ডাকাতদল আমার স্বর্ণের দোকান থেকে ৭০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪০ কেজি রুপা ও নগদ সাত লাখ টাকা লুটে নিয়ে যায়। সকালে নৈশপ্রহরীদের কাছে জানতে পারি ডাকাতরা পুলিশের পোশাকধারী ও মুখোশ পরা ছিল। তারা স্পিডবোটে এসে ডাকাতি করে আবার স্পিডবোটে করে চলে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার পাশের মোস্তফার দোকানে ১০ ভরি স্বর্ণ ও ২০ কেজি রুপা, শাহিনের স্বর্ণের দোকান থেকে ১০ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ কেজি রুপা ও মোক্তার হোসেনের মোবাইলের দোকান থেকে ২০টি অপো, ১০টি স্যামসাং ও ১৫/২০টি অন্যান্য মোবাইল সেট নিয়ে যায়।’

নৈশপ্রহরী হাশেম বলেন, ‘পুলিশের পোশাক পরা ডাকাতদল অস্ত্র হাতে নিয়ে প্রথমে আমাকে হাত-পা বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখে। পরে আব্দুলের হাত-পা বেঁধে রেখে আমার সামনে ফেলে রাখে। ডাকাতরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কোনো শব্দ করতে নিষেধ করে। তারা আমাদের চোখের সামনে মার্কেটের তিনটি স্বর্ণের দোকান ও একটি মোবাইলের দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা দুটি বস্তায় করে সর্বস্ব লুটে নিয়ে স্পিডবোট দিয়ে চলে যায়। তারা সবাই মুখোশধারী ছিল। কাউকে চেনা যায়নি।’

আড়াইহাজার কালাপাহাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ি তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আব্দুল খালেক বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে সকালবেলা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তিনটি স্বর্ণের দোকান ও একটি মোবাইল ফোন দোকানের মালামাল লুটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।’

আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, যাদের দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ডাকাতরা পুলিশের পোশাক পরে ঘটনা ঘটিয়েছে বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছে। সেই বিষয় নিয়েও তদন্ত করে দেখছি।’

প্রসঙ্গত, ১০-১২ দিন আগে কাছাকাছি জাঙ্গালিয়া গ্রামে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও ডাকাতরা গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা