kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

সবিশেষ

মনের কথা পড়তে পারে রোবট স্যুট!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মনের কথা পড়তে পারে রোবট স্যুট!

মস্তিষ্ক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন একটি ‘রোবটিক স্যুট’ পরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক মানুষ তাঁর অবশ হাত-পা নাড়াতে সক্ষম হয়েছেন। ফরাসি গবেষকরা বলছেন, থিবল্ট নামে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ৩০ বছর বয়সী এক ফরাসির ওপর এ পরীক্ষা চালানো হয়। তাঁকে একটি ‘এক্সোস্কেলেটন স্যুট’ পরানো হয়েছিল। এটি তাঁর মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। সেটি পরে তিনি কয়েক ধাপ হাঁটতে পেরেছেন।

গবেষকরা বলছেন, থিবল্ট যেভাবে হেঁটেছেন সেটা যে একেবারে শতভাগ ঠিকঠাক ছিল, তা বলা যাবে না। তিনি এক্সোস্কেলেটন স্যুট পরে গবেষণাগারের ভেতরেই শুধু এই হাঁটার পরীক্ষা চালিয়েছেন। তবে গবেষকরা আশাবাদী, এই পরীক্ষা ভবিষ্যতে পক্ষাঘাতে আক্রান্তদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে আসতে পারে। তাদের জীবনমানে নাটকীয় উন্নতি ঘটাতে পারে।

থিবল্টের মাথায় অস্ত্রোপচার করে তাঁর মস্তিষ্কের ওপর দুটি ইমপ্ল্যান্ট বসিয়ে দেওয়া হয়। মস্তিষ্কের যে অংশটি মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে যুক্ত করা হয়েছিল এসব ইমপ্ল্যান্ট। প্রতিটি ইমপ্ল্যান্টে ছিল ৬৪টি ইলেকট্রোড। মস্তিষ্কের ভেতরে কী হচ্ছে তা মনিটর করতে পারে এসব ইমপ্ল্যান্ট। এরপর তারা মস্তিষ্কের এই সংকেত পাঠিয়ে দেয় নিকটবর্তী এক কম্পিউটারে। অত্যাধুনিক এক কম্পিউটার সফটওয়্যার দিয়ে এসব সংকেত পড়া হয়। এরপর সেই সংকেত অনুযায়ী এক্সোস্কেলেটন স্যুটের কাছে নির্দেশ যায়, কী করতে হবে।

থিবল্টের শরীর বাঁধা ছিল এই এক্সোস্কেলেটন স্যুটে। থিবল্ট যখনই ভাবছেন তিনি হাঁটবেন, মস্তিষ্ক থেকে সংকেত যাচ্ছে কম্পিউটারে, কম্পিউটার থেকে আসা নির্দেশে এরপর এক্সোস্কেলেটন স্যুট তাঁকে হাঁটাচ্ছে। এভাবে কেবল চিন্তা দিয়ে থিবল্ট তাঁর দুই হাতও নানাভাবে নাড়াতে পারেন।

থিবল্ট বলেন, ‘এই অভিজ্ঞতাটা ছিল প্রথম চাঁদের মাটিতে হাঁটার মতো। আমি দুই বছর হাঁটতে পারিনি। কিভাবে দাঁড়াতে হয় সেটা পর্যন্ত আমি ভুলে গিয়েছিলাম। আমার রুমে অনেক মানুষের চেয়ে যে আমার উচ্চতা বেশি, সেটাও আমি ভুলে গিয়েছিলাম।’

তবে দুই হাত কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সেটা শিখতে থিবল্টের অনেক সময় লাগে। থিবল্ট বলেন, ‘এটা খুব কঠিন ছিল। কারণ এখানে একসঙ্গে অনেক কটি পেশি নানাভাবে নাড়াতে হয়। তবে এক্সোস্কেলেটন স্যুট দিয়ে যত কাজ করা যায়, তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে চমৎকার।’ সূত্র : বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা