kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বশেমুরবিপ্রবিতে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন

শিক্ষার্থীরা অনড়, আরো দুই প্রক্টরের পদত্যাগ

ইউজিসির তদন্ত শেষ, দ্রুত সমাধানের আশ্বাস

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষার্থীরা অনড়, আরো দুই প্রক্টরের পদত্যাগ

চোখে কালো কাপড় বেঁধে গতকাল গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপাচার্য হটাও আন্দোলনে উত্তপ্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) আরো দুই সহকারী প্রক্টর পদত্যাগ করেছেন। টানা আন্দোলনের অষ্টম দিনে গতকাল বৃহস্পতিবারও শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবিতে অনড় থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

এদিকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, টানা আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত শেষ করে ঢাকায় ফিরেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে।

বশেমুরবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে গতকাল সকালে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। টানা এই আন্দোলনে এদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি।

এদিন অনশন ও অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি সকাল ১১টায় প্রেস ব্রিফিং এবং দুপুর ১২টায় চোখে কালো কাপড় বেঁধে উপাচার্যের অপসারণের দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীরা ইউজিসি গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে উপাচার্যের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির ফিরিস্তিসংবলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।

এদিকে গত বুধবার রাতে সহকারী প্রক্টর ড. মো. নাজমুল হক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। তিনি কৃষি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্বরত। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার সাত দিন পর গতকাল দুপুরে পদত্যাগ করেছেন আরেক সহকারী প্রক্টর ড. তরিকুল ইসলাম। ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তরিকুল তাঁর পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘প্রশাসনবিরোধী অহিংস আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অন্যায়ভাবে হামলা চালালে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের মধ্যে আমার বিভাগের দুজন শিক্ষার্থীও রয়েছে। একজন সহকারী প্রক্টর হিসেবে আমার সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার প্রতিবাদে আমি আমার প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’ এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর একই ঘটনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন সহকারী প্রক্টর মো. হুমায়ন কবীর।

এদিকে ইউজিসি গঠিত তদন্ত টিম সরেজমিনে ক্যাম্পাসে তদন্তকাজ শেষে গতকাল বিকেলে ঢাকায় ফিরেছে। ড. মো. আলমগীরের নেতৃত্বে টিমের পাঁচ সদস্য গত বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তদন্ত শুরু করেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের লিখিত বক্তব্য নিয়েছেন।

ইউজিসি তদন্ত টিমের সদস্য দিল আফরোজা বেগম বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ের তদন্তকাজ শেষ করেছি। উপাচার্যের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেসব ব্যাপারে আমরা ছাত্র-শিক্ষকসহ অনেকের কথা শুনেছি এবং তাঁদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নিয়েছি।’

তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মো. আলমগীর গতকাল সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসে সে জন্য আমরা সুপারিশ করব। আর যেন এভাবে কোনো শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারেও সুপারিশ করা হবে। আমরা ঢাকায় ফিরে ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম খান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘তদন্ত শেষে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যেই আমরা রেজিস্ট্রারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। রিপোর্টে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ঘটনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।’

রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. নূরউদ্দিন আহমেদ প্রতিবেদন পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসনের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সভা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা